
X
আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া
কুমিল্লার তিতাসের ভিটিকান্দি ইউনিয়নে হত্যা মামলায় জামিনে এসে হত্যার শিকার হয়েছে আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
রাত সাড়ে ৯টায় জরুরী সেবার (৯৯৯) কলের মাধ্যমে পুলিশ খবর পায় এবং রাত ১০টায় ঘটনাস্থলে পৌছে আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে তাকে ঢামেকে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১২টায় লতিফ মারা যায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া মানিককান্দি গ্রামের মো. ধনু ভূঁইয়ার ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে লতিফ সকলের ছোট। সংসারিক জীবনে স্ত্রী আমেনা আক্তারসহ সে এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘মেরী আপা (নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সাবেক এমপি) ফ্রেন্ডস ক্লাব’-এর সভাপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এছাড়া তিনি ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহির হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। ঐ মামলায় প্রায় পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় আসেন।
সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মানিককান্দি গ্রামে শোনসান নিরবতা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে রাত থেকে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আশেপাশের অধিকাংশ বাড়িতে তালা ঝুলছে। প্রায় দেড় ঘন্টা গ্রামটি অবস্থান করে কোন পুরুষ লোকের দেখা মেলেনি। দুই-একজন মহিলা দেখা গেলেও তারা এবিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে নিহত লতিফের বাড়িতে গেলে সেখানে তার বড় বোন পারভীন আক্তার, শিউলী আক্তার ওরফে শিপন এবং তার স্বামী মো. জামাল উদ্দিনকে পাওয়া যায়।
এসময় নিহতের বড় বোন শিউলি আক্তার ওরফে শিপন জানান, বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। সোমবার সন্ধ্যায় এশার নামাজ আদায়ের পর স্থানীয় মুন্সী অটো গ্যারেজ সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চা পান করে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন ছোট ভাই লতিফ। এ সময় তাকে গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। ঘটনার সময় চারিদিক থেকে ব্যারিকেড দেওয়া ছিল যাতে আমরা কেউ ভাইয়ের কাছে যেতে না পারি। প্রায় একঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আমার ভাইকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, আমার ভাইকে যারা খুন করেছে তাদের নাম বলে গেছে, ভিডিওটি আমার ভাইয়ের বউ এর কাছে আছে।
নিহতের আরেক বড় বোন পারভীন আক্তার জানান, “দুপুর ২টায় ঢাকায় লতিফের পোস্টমডেম হবে। তার সাথে তার স্ত্রী আমেনা আক্তার এবং আমাদের আরেক ভাই মতিন ভূঁইয়া রয়েছে। বাড়িতে লাশ আসতে রাত হতে পারে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক বলেন, “রাত প্রায় সাড়ে ৯টায় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাই, মানিককান্দি গ্রামে একজন ব্যক্তি আরেকজনকে গুলি করতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে গণপিটুনি দিচ্ছে। তাৎক্ষণিক আমিসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লতিফকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করি। এসময় তার কোমরের নিচে মাটর উপর থেকে একটি পিস্তুল ও ম্যাগজিনে ভর্তি দুই রাউন্ডগুলি পাওয়া যায়। প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।”
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে ডিবি পুলিশসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মানিককান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মৎস্য প্রকল্পে মাছ ধরা ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ও ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া।