প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম (ভিজিট : ৬৬)

X
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
পাবনার সাঁথিয়ায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাঁথিয়া উপজেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার বিকেলে “শহীদ নিজামীর জীবন ও কর্ম” শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর আবু তালেব মন্ডল এমপি, মতিউর রহমান নিজামীর সন্তান জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ব্যরিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এমপি, মুহাম্মদ আলী আছগার এমপিসহ আরো অনেক নেতৃবৃন্দ। এতো বড় অনুষ্ঠান এবং শহীদ নিজামীর সাথে ১৯৭০ সাল থেকে রাজনৈতিক সহচর থাকার পরও ২৬ বছরের জেলা আমীরকে এই অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
বেড়া উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মকসুদ আলম চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, আমাদের মত পাগলা অগোছালো কর্মীদের বিপ্লবী কর্মীদের সাংগঠনিক শৃংখলায় নিয়ে এসেছিলেন মাওলানা আব্দুর রহিম ভাই সাবেক আমির পাবনা জেলা। রহিম ভাইকে ভোলার কোন সুযোগ নেই। অতীতের ঝড় তুফানের দিনগুলির কথা বারবার মনে পড়ছে।তিনি আমাদের সজীব সতেজ করে রাখতো। পিছনে তাকাইনি সামনে চলার উদ্যম ও সাহস তিনি যুগিয়েছিলেন।
রাশেদুজ্জামান রাজু লিখছেন, তাঁর টাকা পয়সা কম, সে তেলবাজি করে না। দাওয়াত পেতে হলে অনেক লিয়াজো মেইনটেইন করতে হয়। দুনিয়াতে না হলেও আঁখিরাতে তাঁর সম্মান বাড়িয়ে দিক।
মোঃ খায়রুল ইসলাম লিখেছেন, কোনো ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ইতিহাস, আদর্শ ও ত্যাগের প্রতি দায়িত্ববোধেরও বিষয়। বিশেষ করে শহীদ আমিরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রহ. এর মতো একজন নেতার স্মৃতিচারণে এমন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত ছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জামায়াত নেতা বলেন, পাবনা জেলার ২৬ বছরের জেলা আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের শিকার। তিনি শহীদ নিজামীর দীর্ঘদিনের সহচর। যারা শহীদ নিজামীর স্মৃতিচারণ করতে এসেছিলেন তাদের অনেকেই হয়তো শহীদ নিজামী সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ধারণা না থাকলেও মাওলানা আব্দুর রহিমের তাদের অনেকের চেয়ে বেশি জানা আছে। ২০১৬ সালে মাওলানা আব্দুর রহিম জেলখানায় থাকা অবস্থাতেই জেলা আমীর নির্বাচিত হন ভোটের মাধ্যমে।
পাবনা জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর মাওলানা আব্দুর রহিম বলেন, আমি জেলে থাকায় শহীদ নিজামী ভাইয়ের জানাযা করার সুযোগ হয় নাই। সাঁথিয়াতে আসলেই তার কবর জিয়ারত করি। ১৯৭০ সাল থেকে শহীদ নিজামী ভাইয়ের সাথে আমার পথচলা। আমার জানামতে শহীদ নিজামী ভাই কখনো কোন মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেননি। নিজামী ভাই জুডিশিয়াল কিলিং এর শিকার। দাওয়াত দেওয়া না দেওয়া আয়োজকদের ব্যাপার। আল্লাহ আমাকে যতোদিন বাঁচিয়ে রাখবে আমি শহীদ নিজামী ভাইসহ তার পরিবার, জামায়াতে ইসলামী পরিবার এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া ও কাজ করে যাবো ইনশাআল্লাহ।