প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ১২:০৮ পিএম (ভিজিট : ৪৩)

X
মাধবপুরে নিমার্ণের ২০ বছরেও সংযোগ সড়ক পায়নি সেতু
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নের রুপনগর এলাকায় যান-বাহন ও জনসাধারন চলাচলের জন্য ২০ বছর ধরে অপেক্ষায় রয়েছে একটি ব্রীজ। কিন্তু সংযোগ সড়ক না থাকায় ব্যবহারই করা যাচ্ছে না সেতুটি। মানুষের চলাচল না থাকায় সেতুর গায়ে জমেছে শ্যাওলা, রেলিংয়েও দেখা দিয়েছে ভাঙন।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটির পাশেই থাকা পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়েই প্রতিদিন যানবাহন ও পথচারীরা চলাচল করছেন। নতুন সেতুর এক পাশে পাকা রাস্তা থাকলেও অন্য পাশে এখনো রয়েছে ধানিজমি, তৈরি হয়নি কোনো সংযোগ সড়ক।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শাহজিবাজার-বাঘাসুরা-ছাতিয়াইন বাজার সড়কের রূপনগর এলাকার খালের ওপর পুরোনো সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়দের দাবির মুখে প্রায় ২০ বছর আগে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও কয়েকজন প্রভাবশালী গ্রামবাসীর বাধার কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। পরে বাজেট ফেরত যাওয়ার আশঙ্কায় পাশেই নতুন সেতু নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এলাকার বাসিন্দা সাইফুর রহমান রাসেল বলেন, “নতুন ব্রিজ চালু না হওয়ায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পাশের পুরোনো ব্রিজ দিয়ে হাজারো মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ব্রিজটি চালুর দাবি জানাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী রেজাউন নবী বলেন, “আমি এখানে যোগদানের প্রায় ১৯ বছর আগেই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। তখনকার প্রকৌশলী কেন পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেননি, সেটি তিনিই ভালো বলতে পারবেন। শুনেছি, পাশের জমির মালিক জায়গা দিতে রাজি হননি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করব।”
অন্যদিকে জমির মালিক কবির মিয়া বলেন, “আমি কখনো বিনামূল্যে জমি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেইনি। জমিটি আমার কেনা। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী টাকা দিলে আমি জমি দিতে রাজি আছি।”
বাঘাসুরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. জোসনা আক্তার বলেন, “মাত্র দুই শতক জমি হলেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্ভব। এই জমির মূল্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা হবে। অথচ দুই লাখ টাকার জন্য ১২ লাখ টাকার ব্রিজ অকেজো পড়ে আছে।” তিনি দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।