
X
ফাইল ছবি
যশোরের শার্শা উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে শার্শা থানা পুলিশ। গত এক মাসে থানা পুলিশের ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন মামলায় মোট ৫৬ জনকে আটক করা হয়েছে।
শার্শা থানা সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এক মাসে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত ২৬ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া মাদক মামলায় ২৩ জন, পর্নোগ্রাফি মামলায় ২ জন, ধর্ষণের চেষ্টা মামলায় ১ জন, ধর্ষণ মামলায় ১ জন, পাবলিক পরীক্ষা আইনে ২ জন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে শার্শা উপজেলায় মাদক, নারী নির্যাতন, অনলাইনভিত্তিক অপরাধ ও বিভিন্ন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। থানা পুলিশের একাধিক টিম দিন-রাত অভিযান পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতে অনেক অপরাধী প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও বর্তমানে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানে তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মাদক কারবারি ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।
এদিকে, পাবলিক পরীক্ষা চলাকালীন নকল ও অসদুপায় অবলম্বন রোধেও কঠোর অবস্থানে ছিল প্রশাসন। পরীক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন জানান,শার্শাকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন, পর্নোগ্রাফি, সাইবার অপরাধ কিংবা ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি—কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শার্শা থানা পুলিশ সবসময় মাঠে রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য জানলে তা পুলিশকে অবহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে শার্শায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাদক ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত আটক অপরাধ দমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন আইন-শৃঙ্খলা বিশ্লেষকরা।