প্রকাশ: রোববার, ১৭ মে, ২০২৬, ৬:৪০ পিএম (ভিজিট : ৪২)

X
ফাইল ছবি
ব্যাংকের ঋণ এবং দোকানে সার-কীটনাশক বাকি রেখে প্রায় ৬০ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার কৃষি উদ্যোক্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন। সঠিক পরিচর্যায় ক্ষেতজুড়ে গাছের সমারোহ ঘটলেও, মৌসুমের শেষ সময়ে এসেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত ফল। বীজ কোম্পানির আশ্বাসে ফলন হলে বর্তমান বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করতে পারতেন বলে দাবি এই কৃষকের। কিন্তু ফল না আসায় সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খুইয়ে এখন তিনি দিশেহারা।
জেলা প্রশাসক বরাবর দেওয়া লিখিত অভিযোগে সাজ্জাদ হোসেন জানান, বোদা উপজেলার সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদরের নলেহা গ্রামে প্রতি একর ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে ৬০ একর জমি লিজ নেন তিনি। প্রথমে আলু চাষে লোকসান করায়, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নেন। বোদা বাজারের সার-বীজ ব্যবসায়ী আরিফুল রহমান রাসেলের পরামর্শে আলমগীর সীড কোম্পানির ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের বীজ লাগান। কোম্পানি থেকে প্রতি একরে ১৯-২০ মেট্রিক টন ফলনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। তাদের নির্দেশনা মেনে নিয়মিত সেচ, সার ও কীটনাশক দেওয়ায় গাছের বৃদ্ধি চমৎকার হলেও তিন মাসেও কোনো ফল আসেনি।
জমির মালিক কাব্য ভূষণ বর্মন বলেন, "আমরা ছয় ভাই মিলে সাজ্জাদ ভাইকে জমি দিয়েছি। আলু চাষে লোকসানের পর তিনি মিষ্টি কুমড়া করেছিলেন। কিন্তু গাছ ভর্তি হলেও কোনো ফল আসেনি। আমাদের জমির পাশেই অন্য চাষিদের ক্ষেত মিষ্টি কুমড়ায় ভরে গেছে। সাজ্জাদ ভাই বলেছিলেন কুমড়া বিক্রি করে লিজের বাকি টাকা দেবেন, এখন আমরাও চিন্তায় আছি।"
সার-বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল বলেন, "কোম্পানির আশ্বাসে গত ২৬ জানুয়ারি নগদ টাকায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম বীজ কিনে সাজ্জাদ ভাইকে দিই। নির্দেশনা মেনে চাষ করলেও কোনো ফল আসেনি। বীজ কোম্পানির কারণে সাজ্জাদ ভাইয়ের বিপুল ক্ষতি হয়েছে। আমি কোম্পানির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করলে তারা এখন নানা টালবাহানা করছে।"
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, "ঋণ আর ধারদেনা করে প্রায় ৪০ লাখ টাকা খরচ করেছি। আলমগীর সীড কোম্পানি আমাকে রাস্তায় বসিয়েছে। আমি এর উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ চাই, না হলে আদালতে যাব।"
জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম জানান, "কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদের বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগের অনুলিপি আমরা পেয়েছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ আমরা মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। তিনি আসলেই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।"