
পাবিপ্রবিকে জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (পাবিপ্রবি) নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার জায়গা; সংঘাত, বিভাজন বা ভয়ভীতির নয়।”
রোববার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন উপাচার্য।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, প্রক্টর ড. কামরুজ্জামান খান এবং ছাত্র উপদেষ্টা ড. মো. রাশেদুল হক।
অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু ডিগ্রি দেওয়ার প্রতিষ্ঠান নয়, এটি মানুষ গড়ার জায়গা। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করাই হবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
ক্যাম্পাসের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবেই সহিংসতা, দলীয় প্রভাব বা বিভাজনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
উপাচার্য আরও বলেন, পাবিপ্রবিকে একটি মানবিক, আধুনিক ও গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাই তাঁর প্রধান ভিশন। এ লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, ডিজিটাল লাইব্রেরি সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
স্মার্ট ক্যাম্পাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসনিক সেবা, একাডেমিক কার্যক্রম, লাইব্রেরি, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যসেবাকে ধাপে ধাপে প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে। শিক্ষার্থীরা যেন দ্রুত ও সহজে প্রয়োজনীয় সেবা পায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হবে।
শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, “শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিং ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে নিজেদের আরও ভালোভাবে প্রস্তুত করতে পারবে।”