প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৮:৫৬ পিএম (ভিজিট : ৫৯)

X
পৃথক ঘটনায় ভুক্তভোগী লামিশা জামান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ৬ দিনেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারার প্রতিবাদে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)। একই দিনে নারী হেনস্তা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ইতিহাস বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ভুক্তভোগী লামিশা জামান।
আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নেতারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় ১৫ মিনিট অবরোধ করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়। অবরোধ চলাকালে মহাসড়কের আরিচাগামী লেনে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় বক্তারা বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগরের মতো একটি আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর এক নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার ছয় দিন পার হলেও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে না পারা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যর্থতা।’
এর আগে গত রবিবার রাত থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান। তিনি সাম্প্রতিক ধর্ষণচেষ্টার ও নারী হেনস্তা এবং নিজের সাথে ঘটা ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ জানিয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লামিশা জামানের অভিযোগ, রবিবার রাতে আরেক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে সহপাঠীদের সঙ্গে প্রক্টর অফিসে গেলে সেখানে এক ব্যক্তি তাঁর ক্লোজ ভিডিও ধারণ করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার চেষ্টা করেন। পরে শিক্ষার্থীরা ওই ব্যক্তিকে আটক করে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করেন। একই দিনে আরো এক নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগে ২ জনকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অবস্থান কর্মসূচিতে লামিশা জামান বলেন, ‘প্রশাসনের মৌখিক আশ্বাসে তিনি আস্থা রাখতে পারছেন না। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট কবে এবং কখন প্রকাশ করা হবে, সেটি প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে।’
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ২০ মে বিকেল চারটার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটিকে যথেষ্ট মনে করছেন না তিনি। তাঁর ভাষ্য, “এটি শুধু ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নয়; এটি ক্যাম্পাসের সব নারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্ন।”
নিজ বক্তব্যে লামিশা জামান ১৭ মে মধ্যরাতে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া তিনটি পৃথক ঘটনার বর্ণনা দেন। তাঁর ভাষ্য মতে, প্রথমে ফেসবুকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে ইসলামনগর এলাকায় এক ব্যক্তি নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এরপর সন্ধ্যার দিকে প্রক্টর অফিসে কেসি গেট এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পেটুক নামক এক দোকানের কর্মচারী তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।