প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম (ভিজিট : ৪১)

X
ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসী মানছুরাকে স্বাবলম্বী করতে ওকাপের ভেড়া প্রদান
ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি ফেরত হাইজাদী ইউনিয়নের নারান্দী গ্রামের মানছুরা বেগমকে অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) এর অধীনে জীবন দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ শেষে সোমবার জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে ওকাপের সহযোগিতায় চারটি ভেড়া কিনে দেওয়া হয়।
ফলে তিনি ভেড়াগুলো লালন পালনের মাধ্যমে নিজে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। ওকাপ ফিল্ড অফিসার সোবহান আলী এই কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করেন।
মানছুরার পারিবারিক সূত্র জানায়, নারান্দী গ্রামের আ. লতিফের কন্যা চার সন্তানের জননী মানছুরা প্রায় ৯ বছর আগে সংসারের টানা পোড়েন ঘুচাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। ইতি মধ্যে তার ৩ পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে একটি পুত্র সন্তান মারা যায়।অসুস্থ রিকসা চালক স্বামী সেলিমের পক্ষে সংসার চালাচানো সম্ভব হচ্ছিলনা বলে তাকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বালম্বী করার লক্ষ্যেই মানছুরার সৌদি আরবে গমন। সেখানে গিয়ে তিনি গৃহপরিচারিকার কাজ নেন। কিছুদিন ভালই চলচিল তার কাজ কর্ম। পরিবারেকেও কিছু টাকা পয়সা পাঠাতে পারতেন। কিন্তু কিছুদিন পরিই হলো বিধি বাম। মানছুরা অত্যন্ত গুরুতর ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে দু বছর আগে সৌদিআরবের কফিল (মালিক) তাকে দেশে পাঠিয়ে দেন। দেশে এসে এক দিকে সংসারের আভাব অনটন অপর দিকে স্বামী ও নিজের অসুস্থতা এবং অল্প বয়সে একটি ছেলে সন্তানের মৃত্যু এসব বিষয়ে মানছুরা একেবারে ভেঙ্গে পড়েন।
এ সময় তার পাশে এসে দাঁড়ায় অভিবাসন কর্মীদেরকে নিয়ে কাজ করা সংগঠণ অভিভাসন কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম ( ওকাপ)। এ প্রতিষ্ঠানের আড়াইহাজারের ফিল্ড অফিসার সোবহান আলী ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় তাকে দীর্ঘ দিন পিজি হাসপাতালে রেখে সু-চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে তোলা হয়। তাকে স্বাবলম্বী করতে ওকাপ বেশ কয়েকটি প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করায়।
পরে সোমবার ( ১৮ মে) ওই সংগঠণ থেকে মানছুরাকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে চারটি ভেড়া কিনে দেয়া হয়। যাতে ভেড়া গুলো লালন পালন করে তিনি স্বাবলম্বী হতে পারেন।
ওকাপ আড়াইহাজার অফিস জানায়, মানছুরার মত সকল ক্ষতিগ্রস্থ অভিভাসিদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে ওকাপ সব সময় কাজ করে যাবে। ভোড়া গুলো পেয়ে মানছুরাও বেশ খুশি। তিনি ওকাপ আড়াইহাজার অফিসের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।