বগুড়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার কৃতি সন্তান এম আর ইসলাম স্বাধীন। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে এবার তিনি নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের শাসক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ের পাদদেশে করতোয়া নদীর তীরবর্তী অনন্তবালা গ্রামের সন্তান এম আর ইসলাম স্বাধীন মরহুম আজমল হোসেনের মেঝ পুত্র।
বর্তমানে তারা সপরিবারে বগুড়া শহরের মালতি নগর বকশিবাজার এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। তার বাবা রায়নগর ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় এমআর ইসলাম স্বাধীনও ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
এলজিআরডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিকট থেকে নবগঠিত বগুড়া সিটির প্রশাসক পদের নিয়োগ পত্র গ্রহণ করছেন এম আর ইসলাম স্বাধীন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে সংগঠনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ করে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তার নেতৃত্বে বগুড়ার রাজপথ ছিল আন্দোলনমুখর। সে সময় ছাত্রসমাজ ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে, যা বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এখনও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
এলজিআরডি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিকট থেকে নবগঠিত বগুড়া সিটির প্রশাসক পদের নিয়োগ পত্র গ্রহণ করছেন এম আর ইসলাম স্বাধীন।
এছাড়াও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সম্মুখ সারিতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার জেল-জুলুম, নির্যাতন ও নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেও তিনি মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন।
তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় বগুড়ার আপামর জনসাধারণ সাধুবাদ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের কারণে নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হবে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, এম আর ইসলাম স্বাধীন সবসময় সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের পাশে থেকেছেন।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন মানবিক ও সাহসী ব্যক্তি হিসেবেও তিনি বগুড়ার মানুষের কাছে সুপরিচিত। বিশেষ করে তরুণ সমাজের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপ্রেরণার নাম।
নবগঠিত বগুড়া সিটির উন্নয়ন, নাগরিক সেবা আধুনিকায়ন, যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা জোরদার এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নতুন দায়িত্ব পালনে তার সর্বাত্মক সফলতা কামনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে ঘিরে শুভেচ্ছা ও প্রত্যাশার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।