
X
জুলাই যোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এবার কোরবানির পশুর হাটের বরাদ্দ চেয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আহত জুলাই যোদ্ধারা। রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নে পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি না পাওয়া, প্রশাসনিক হয়রানি, চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং হামলা-ভাঙচুর ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়। এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন যোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নিয়ে আহত ও কর্মক্ষমতা হারানো যোদ্ধাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে একটি কোরবানির পশুর হাট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করে জেলা প্রশাসকের কাছে সুপারিশপত্র দেন।
তাদের অভিযোগ, সুপারিশপত্র নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গেলেও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তারা সাক্ষাৎ পাননি। পরে জেলা পরিষদ প্রশাসক কাজ শুরুর আশ্বাস দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ইউএনও কার্যালয়ের বাইরে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি আগে থেকেই তাদের কাছে চাঁদা দাবি করছিল। পরে ইউএনও’র সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং পশুর হাটের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ও সংগৃহীত ফান্ড হাট পরিচালনার কাজে বিনিয়োগ করেছিলেন তারা। কিন্তু পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা হাটের প্রস্তুতি কাজে বাধা দেন। একই সঙ্গে চাঁদা দাবিকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ব্যানার, সরঞ্জাম ও হাটের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে।
জুলাই যোদ্ধারা বলেন, যে আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি, আজ সেই আন্দোলনের যোদ্ধারাই অপমান, হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হচ্ছি।
এসময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত এবং নিরাপত্তা দিয়ে পশুর হাট পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার দাবি জানান।