
X
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে লাখাইয়ে খামারিদের ব্যস্ত সময় পার
পবিত্র ঈদুল আযহা তথা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় কোরবানির পশুর ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এবার উপজেলায় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির হাটের জন্য এবার মোট ৫ হাজার ১৩৫টি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর দেশের অন্যান্য জেলা ও অঞ্চলে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।ঈদ ঘনিয়ে আসায় লাখাই উপজেলার পশু খামারিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। পশুকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলতে যত্নের কোনো কমতি রাখছেন না তারা।
খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন গরু-মহিষকে কাঁচা সবুজ ঘাস, ভুষি ও খৈল খাইয়ে মোটাতাজা করতে। তবে বাজারে গো-খাদ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি খামারিদের কপালে কিছুটা দুশ্চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লাখাইয়ের ৬টি ইউনিয়নে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ শত ৮০টি বাণিজ্যিক খামার রয়েছে। এর বাইরেও অনেক পরিবার ব্যক্তিগত উদ্যোগে গৃহস্থালি পর্যায়ে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া পালন করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার লাখাইয়ে খামার ও পশুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
গত বছর খামারির সংখ্যা ছিল ৭৭১টি এবং পশুর সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৭৭৮টি। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবছর খামার বেড়েছে ৯টি এবং পশুর সংখ্যা বেড়েছে ৩৫৭টি।চলতি বছর কোরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত মোট ৫ হাজার ১৩৫টি পশুর মধ্যে ষাঁড় ও বলদ রয়েছে ৪ হাজার ৩৬টি। এছাড়া মহিষ, ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত রয়েছে ১ হাজার ৯৯টি।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশুর পর্যাপ্ততা, নিরাপদ সরবরাহ এবং শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর একটি সমন্বিত বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
কৃত্রিম উপায়ে স্টেরয়েড বা রাসায়নিক দিয়ে ক্ষতিকারক মোটাতাজাকরণ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। এজন্য নিয়মিত তদারকির জন্য একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
উপজেলার প্রতিটি এলাকায় ভেটেরিনারি টিমের মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনো খামারে বা হাটে কৃত্রিম উপাদান ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উপজেলার ১টি অনুমোদিত প্রধান পশুর হাটে সার্বক্ষণিক হাট ব্যবস্থাপনা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করবে একটি ডেডিকেটেড ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম।
হাটে পশুর হেলথ সার্টিফিকেট (স্বাস্থ্য সনদ) দ্রুত যাচাই ও যেকোনো জরুরি সেবা নিশ্চিতের জন্য একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে।
জরুরি প্রয়োজনে যে কেউ সরাসরি উপজেলা কন্ট্রোল রুমের হটলাইন নম্বর: ১৬৩৫৮-এ যোগাযোগ করে সেবা নিতে পারবেন।খামারিরা আশা করছেন, যদি শেষ পর্যন্ত বাজার দর ভালো থাকে এবং বাইরের বেপারিরা সহজে আসতে পারেন, তবে গো-খাদ্যের বাড়তি দামের পরও তারা ভালো মুনাফা ঘরে তুলতে পারবেন।