
ছবি: প্রতিনিধি
ঈদের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এখন হাটের সৌন্দর্য বাড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন গরু বিক্রেতা, খামার মালিক, ইজারাদারসহ সংশ্লিষ্টরা। এবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় খামার মালিকরা কোরবানির চাহিদার কথা চিন্তা করে পর্যাপ্ত পরিমাণ পশু প্রস্তুত করেছেন।
কোরবানির আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি থাকতেই হঠাৎ করেই ভারত থেকে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ গরু আসছে—এমন কিছু সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার হওয়ায় উপজেলার খামার মালিকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে উপজেলার ঠেঙ্গারবান্দ এলাকায় গেলে খামারের মালিক মো. আজিজুল হক জানান, “আমি কোরবানি উপলক্ষে আটটি গরু পালন করে আসছি। আশা করছিলাম গরুগুলো বিক্রি করে কিছুটা লাভের মুখ দেখব। কিন্তু হঠাৎ করে দেখি ভারত থেকে গরু বাংলাদেশে আসছে। এতে আমাদের দেশে চাহিদার তুলনায় গরুর সংখ্যা বেড়ে যাবে এবং দাম কমে যেতে পারে। এ নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কালিয়াকৈর উপজেলায় কোরবানির জন্য মোট ১৯ হাজার ২৭৪টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ রয়েছে।
কালিয়াকৈরের সাহেবাবাদ এলাকার খামারি হাজী আকরাম জানান, “আমার খামারে এবার কোরবানির জন্য ৪০টি দেশি ও শাহিওয়াল জাতের গরু প্রস্তুত করেছি। চার মাস ধরে নিয়মিত খাবার, ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ক্রেতারা এসে দেখে পছন্দমতো নিতে পারবেন। দামও সাধ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করব।”
সূত্রাপুর এলাকার তরুণ উদ্যোক্তা তোফাজ্জল হোসেনের খামারে প্রস্তুত রয়েছে আটটি মোটাতাজা ষাঁড়। তিনি বলেন, “আমার খামারের গরুগুলো ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকার মধ্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা আছে। স্থানীয় হাটেই বিক্রি করব। ক্রেতারা খামারে এসে দেখে কিনতে পারবেন।”
স্থানীয়দের মতে, ভারতীয় গরু দেশে আসার কারণে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। তবে এতে ক্রেতারা সুবিধা ভোগ করবেন। তারা তুলনামূলক কম দামে কোরবানির পশু কিনতে পারবেন।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার খামারি ও পশুর সংখ্যা তেমন কমেনি। স্থানীয়ভাবেই কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব। বাইরে থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না।”
পশুর গুণগত মান ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবার কোরবানির হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ পশু চিকিৎসাকেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে।