দুর্গম পাহাড়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাবের পর এবার বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার থাবা দেখা দিয়েছে।

2026-05-22T15:45:29+00:00
2026-05-22T15:45:29+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
দুর্গম পাহাড়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক
থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম   (ভিজিট : ৪৭)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রী ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাবের পর এবার বেশ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে ডায়রিয়ার থাবা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতে স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে রেমাক্রী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হ্লাথোয়াইপ্রু মারমা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, রেমাক্রী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আদা ম্রো পাড়ায় ৮ জন, অংহ্লা খুমী পাড়ায় ৬ জন, লাইথাং মেম্বার পাড়ায় ৬ জন, রেমাক্রী বাজারে ১০ জন, জাদি পাড়ায় ৫ জন, কলা পাড়ায় ৫ জন এবং তিন্দু ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চিংথোয়াইঅং হেডম্যান পাড়ায় ১০-১২ জনসহ সব মিলিয়ে অর্ধশতাধিক মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

বিএনপি নেতা শৈবাথোয়াই মারমা বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে চিংথোয়াইঅং পাড়ার বাসিন্দা ও রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খ্যাইম্রউ মারমা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে তাকে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

তিনি আরও বলেন, রেমাক্রী ও তিন্দু ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওকে অবহিত করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

রেমাক্রী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেনার্ডিক্ট ত্রিপুরা বলেন, “অর্ধশতাধিক মানুষ বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থীর সংখ্যাই বেশি। দুর্গম এলাকার কারণে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক মংসাচিং মারমা বলেন, “রেমাক্রী বাজারের তিনটি ফার্মেসিতেই কলেরা স্যালাইনের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।”

যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ওয়াহিদুজ্জামান মুরাদ বলেন, “গত এক সপ্তাহে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী দুর্গম লিটক্রে এলাকায় ৮৪ জন হাম আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে জরুরি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে। আমি বর্তমানে কক্সবাজারে সরকারি কর্মসূচিতে আছি। গণমাধ্যমে খবর পেয়েছি। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইনসহ মেডিকেল টিম পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী জরুরি ভিত্তিতে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তারা দ্রুত মেডিকেল টিম পাঠানো, পর্যাপ্ত স্যালাইন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy