প্রকাশ: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১:২০ পিএম (ভিজিট : ১৭৫)

X
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যা মামলার ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ রিপোর্ট হাতে পাওয়া যেতে পারে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামীকাল রোববারের মধ্যেই আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান জানান, ডিএনএ পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলেই চার্জশিট প্রস্তুত করে আদালতে জমা দেওয়া সম্ভব হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোববারের মধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা যাবে।
এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
জবানবন্দিতে সোহেল দাবি করেন, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে কৌশলে তাদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে বাথরুমে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণ করা হয়। শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে এবং বাইরে থেকে তার মা দরজায় ধাক্কা দিতে থাকলে সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে।
পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া দুই হাত আংশিক বিচ্ছিন্ন এবং যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন বলেও জানানো হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার দিন সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের সহায়তায় অভিযুক্তদের কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে শিশুটির মাথা পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার পর ২০ মে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে সোহেলের জবানবন্দি রেকর্ড এবং স্বপ্নাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।