
X
জয়পুরহাট-মোকামতলা সড়কে নিম্নমানের খোয়ার অভিযোগ
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার সুড়াইল এলাকায় গ্রামীণ সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্মাণাধীন সড়কে ব্যবহৃত খোয়া এতটাই দুর্বল যে সাইকেল কিংবা ভ্যানগাড়ির চাকার চাপেই তা গুঁড়া হয়ে যাচ্ছে। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলার “সুড়াইল ভিলেজ রোড” নামে ১ হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৭৪ টাকা। আক্কেলপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুজাইফার ট্রেডার্স কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। বর্তমানে সড়কে ইটের খোয়া বিছানোর কাজ চলছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জয়পুরহাট-মোকামতলা আঞ্চলিক মহাসড়কের সুড়াইল অংশে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খোয়া বিছানো হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুরুতে কিছুটা ভালো মানের খোয়া ব্যবহার করা হলেও পরবর্তীতে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়।
সুড়াইল গ্রামের বাসিন্দা খায়রুল ইসলাম, আবু তাহের, হযরত আলী, বালাইট গ্রামের সুজাউল ইসলাম ও হাসান আলীসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, রাস্তার শেষ অংশে নিম্নমানের ৩ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, “খোয়াগুলো হাতের চাপেই ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে রাস্তা নির্মাণ হলে বর্ষার সময় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে।”
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে তার ওপরেই নতুন খোয়া ফেলে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুজাইফার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মামুন বলেন, “যেসব নিম্নমানের খোয়া ছিল, সেগুলো প্রত্যাহার করে উন্নতমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা প্রকৌশলী সুমন দেবনাথ বলেন, “নিম্নমানের খোয়া সরিয়ে নিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।”
স্থানীয়দের দাবি, সড়কের নির্মাণকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং এলাকাবাসী একটি টেকসই সড়ক পায়।