
X
আতঙ্ক বাড়াচ্ছে ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মঙ্গলবার (২৬ মে) হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। স্থানীয় সময় বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে হওয়া এ ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৪।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুবাইয়াৎ কবীর জানিয়েছেন, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলা।
তিনি বলেন, ভূমিকম্পটি স্বল্পমাত্রার ছিল, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু নেই।
তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পের সময় অল্প সময়ের জন্য কাঁপুনি অনুভূত হলেও কোনো ধরনের বড় ধরনের ঝুঁকি বা ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার নিচে।
ভূমিকম্পের পরপরই রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহসহ আশপাশের এলাকায় অনেক মানুষ হালকা কম্পন অনুভব করেন এবং কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আতঙ্কের নাম ‘ব্লাইন্ড ফল্ট’
বাংলাদেশের ফল্ট লাইন বা চ্যুতি-রেখার জন্য পাঁচটি জায়গা পরিচিত। বার্মা বা মিয়ানমার থেকে নোয়াখালী, যাকে বলে প্লেট বাউন্ডারি ১; সেখানে ১৭৬২ সালে ৮ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
আরেকটা প্লেট বাউন্ডারি ২, যেটা নরসিংদীর ওপর দিয়ে চলে গেছে; অতীতে এখানে সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। এরপর প্লেট বাউন্ডারি ৩, যেটা সিলেট থেকে ইন্ডিয়ার দিকে চলে গেছে; এখানে ১৯১৮ এবং ১৯৬৯ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
আর আছে ডাউকি ফল্ট, যেখানে ১৮৯৭ সালে ৮ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। সবশেষ আছে মধুপুর ফল্ট, যেখানে ১৮৮৫ সালে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।
গবেষকদের মতে, এগুলোর কিছু জায়গায় ৩৫০ বছর, আবার কিছু জায়গায় ৯০০ বছরের মতো সময় পরে বড় ভূমিকম্প হতে পারে।
তবে এর বাইরেও কিছু ফল্ট লাইন আছে, যেগুলোকে বলে 'ব্লাইন্ড ফল্ট'। ব্লাউন্ড ফল্ট হলো এমন ধরনের ফল্ট, যা ভূপৃষ্ঠ পর্যন্ত পৌঁছায় না। তাই ভূপৃষ্ঠে কোনো চিহ্ন না থাকায় সাধারণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্রে এটি দেখা যায় না বা শনাক্ত করা কঠিন হয়। এই ধরনের ফল্ট বিপজ্জনক।
বাংলাদেশে দুটো চিহ্নিত ব্লাইন্ড ফল্ট আছে—একটি ময়মনসিংহে, অন্যটি রংপুরে। যেহেতু এই ফল্ট লাইনগুলো শনাক্ত করা কঠিন, তাই কোনো সতর্কবার্তাও পাওয়া যায় না। ঢাকার জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এই ব্লাইন্ড ফল্টগুলো।