প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৩:২৯ পিএম (ভিজিট : ৭৪)

X
ফাইল ছবি
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস চলছে ভাড়াটে অফিসারে। ফলে রাজস্ব আদায় যেমন মুখ থুবড়ে পড়েছে, অনুরূপ জনভোগান্তি চরমে।
জানা যায়, সরকারের রাজস্ব আদায়ের অন্যতম মাধ্যম জমি ক্রয় বিক্রয়ে বিভিন্ন কর এসব কর আদায়ে জমি ক্রয় বিক্রয়ের দলিল সম্পাদন করেন উপজেলা সাব-রেজিস্টার।
এমন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটিতে নেই কর্মকর্তা, তুষভান্ডার সাব-রেজিস্টার পদই বর্তমানে শূন্য। ফলে অন্য জেলার ভাড়াটে সাব-রেজিস্টাররা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। সপ্তাহে ৫দিন কর্মদিবস হলেও কর্মকর্তা সংকটের কারণে মঙ্গলবার ও বুধবার দুদিন সচল থাকছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ এ অফিস টি।
এ অফিসের এ গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য রয়েছে প্রায় বছর খানেক সময় ধরে। শূন্য পদে পদায়নের বিষয়টি যেন ভুলেই গেছেন কর্তৃপক্ষ।
লালমনিরহাট জেলা-রেজিস্টারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জের তুষভান্ডার অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন রংপুরের গংগাচওড়া উপজেলা সাব রেজিস্টার রিপন চন্দ্র মন্ডল। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসে তারা সপ্তাহে মাত্র /দুদিন সময় দিচ্ছেন। যার কারণে জনভোগান্তি চরমে উঠেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রপুর থেকে আসা জমি ক্রেতা রবি মিয়া বলেন, কয়েকদিন এসে ফিরে গেছি সাব-রেজিস্টার নেই। সাব-রেজিস্টার আসেন মাত্র দুই দিন। সেদিন আবার দাতা ছুটি পান না। এই করে আজ এক মাস ধরে দলিল করতে পারছি না। বিক্রেতাও পড়েছেন বিপাকে তার মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। অনেক ভোগান্তির পরে আজকে সাব রেজিস্টার ও দাতা দুজনকে পেয়েছি রেজিস্ট্রি হবে। তবে দুশ্চিন্তা হচ্ছে, ভিড়ের কারণে দলিল লেখক আর সাব-রেজিস্টার দালিল ঠিকঠাক দেখতে পারছেন না। ভুলে ভালে দলিল সম্পাদনের ঝুঁকিও থাকছে।
দলিল লেখক ( নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক ব্যক্তি বলেন, অন্য জেলার সাব-রেজিস্টার আসেন আমাদের জেলায়। তিনি তার নিজের অফিসের চাপ সামলে তবে আমাদের জানান আমরা তারাহুড়ো করে দলিল প্রস্তুত করে দিচ্ছি। সপ্তাহে পাঁচদিনের কাজ একদিনে করলে যা হবার তাই হচ্ছে। সাব-রেজিস্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ শূন্য হলে দলিল লেখক, নকলনবিশ, ক্রেতা বিক্রেতা, পুরাতন দলিল সংগ্রহসহ সব ধরনের কাজে ব্যাঘাত ঘটে। যার কারণে রাজস্ব আদায় কমে যাচ্ছে, তৈরি হচ্ছে জনদুর্ভোগ। আমরাও সুষ্ঠুভাবে জনগণকে সেবা দিতে পারছি না। দ্রুত সাব-রেজিস্টার পদায়নের দাবি জানাই।
লালমনিরহাট জেলা রেজিস্টার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, জেলার পাঁচটি কার্যালয়ে সাব রেজিস্টার পদে বাইরের জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনভোগান্তি লাঘবে সাব-রেজিস্টার পদায়নে কয়েক দফায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে, পদায়ন দিলে এ জনদুর্ভোগ কমে যাবে।