প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৮৯)

X
ফাইল ছবি
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মামলার আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়েছে। আত্মপক্ষ শুনানি শেষে পরবর্তী ধাপ রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামিকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বুধবার (৩ জুন) বেলা ১১টা ৯ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শুরু হয়।
সোহেলের কিছু বলার আছে কিনা বিচারক জানতে চাইলে সোহেল রানা বলেন, ‘আমি নির্দোষ স্যার। স্যার, আমাকে মাফ করে দিন।’
সোহেল রানা আরও বলেন, ‘স্যার আমার সঙ্গে ডলার ছিল, তাকে কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন। আমিও দোষ করেছি। কিন্তু একা দোষী না। আমার একটা ছাওয়াল আছে। আমাকে ক্ষমা করে দেন।
শুনানিতে আরেক আসামি স্বপ্না বলেন, ‘স্যার আমি নির্দোষ। আমি কিছু করিনি।’
দুই আসামির বক্তব্য রেকর্ড শেষে এ মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার ধার্য করেছেন আদালত।
এর আগে মঙ্গলবার (২ জুন) এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত। মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এরপর ভিকটিমের- মা পারভীন আক্তার, বড় বোন রাইসা আক্তার, ফুপু মাহমুদা আক্তার, চাচা মিজানুর রহমান লিটন, চতুর্থ তলার বাসিন্দা মনির হোসেন, প্রতিবেশী জাকিরুল ইসলাম রাজু, দ্বিতীয় তলার বাসিন্দা শেখ আবু সামা, ফুপা মনিরুজ্জামান শাহীন ও কনস্টেবল রোমা আক্তার, কনস্টেবল শরীফ মিয়া, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন, ময়নাতদন্ত প্রস্তুত করা ডা. নাসাদ জাবিন, আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ, এসআই রাশেদুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই অহিদুজ্জামান পর্যায়ক্রমে আদালতে জবানবন্দি দেন।
সাক্ষীদের জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমউল্লাহ। এরপর আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে আট বছরের শিশু রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ফ্ল্যাটটিতে বসবাসকারী সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়।