সারিয়াকান্দিতে গ্রাহকের ৫ কোটি হাতিয়ে নিয়ে সমিতির লোকজন উধাও

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আমানতের ও এককালীন জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা।আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার কামালপুর

2026-06-04T16:52:43+00:00
2026-06-04T16:52:43+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সারিয়াকান্দিতে গ্রাহকের ৫ কোটি হাতিয়ে নিয়ে সমিতির লোকজন উধাও
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম   (ভিজিট : ১০১)
সারিয়াকান্দিতে গ্রাহকের ৫ কোটি হাতিয়ে নিয়ে সমিতির লোকজন উধাও
X

সারিয়াকান্দিতে গ্রাহকের ৫ কোটি হাতিয়ে নিয়ে সমিতির লোকজন উধাও

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে আমানতের ও এককালীন জমানো টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগীরা। 


আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কড়িতলা সমিতির কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন প্রায় শতাধিক আমানতকারী। 


সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের কাশাহার গ্রামের শতাধিক আমানতকারীর প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৫ কোটি টাকা নিয়ে, একটি সমবায় সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক লাপাত্তা হয়ে গেছে। গ্রাহকেরা আমানতের টাকা নিতে এসে দেখেন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়টি বন্ধ। এরপর তার বাড়িতে গেলেও কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুঠোফোনেও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না তারা।


প্রতিষ্ঠানটির নাম "সুর্য্যের আলো সমবায় সমিতি "। আমানতের টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা ও প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানার শাস্তি দাবি করে বৃহস্পতিবার সকালে কড়িতলা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি করেন ভুক্তভোগীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন হেলেনা, খোদেজা, মুর্শিদা, সুলতান মহমুদ, জহুরুল, শারমিন প্রমুখ।


ভুক্তভোগীরা বলেন, ২০১৫ সালে কাশাহার এলাকার বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন ও সোহেল রানা মিলে সুর্য্যের আলো সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠিত করে। কড়িতলা বাজার এলাকায় একটি অফিস স্থাপন করে ও সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ফরিদ উদ্দিনের বাড়িটিও অস্থায়ী কার্যালয় ছিলো।  


অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় আশপাশের এলাকার লোকজনের ওই সমবায় সমিতিতে টাকা গচ্ছিত রাখেন। গত কয়েক বছর ধরে গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে নিয়মিত লভ্যাংশও দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু গত বছর থেকে লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। লভ্যাংশসহ আমানতের টাকা ফেরত চেয়ে আমানতকারীরা সমিতির সভাপতিকে  চাপ দেওয়া শুরু করেন। এরপর গত বছরে (১৪ আগষ্ট ) থেকে কার্যালয়টি বন্ধ পান গ্রাহকেরা। ওই দিন থেকেই সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারন সম্পাদক সোহেল  লাপাত্তা হন। এ অবস্থায় ১শত জন গ্রাহক তাঁদের প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন না।


মানববন্ধনে ভুক্তভোগী ওই সমিতির সাবেক কর্মচারীর স্ত্রী শারমিন বলেন, আমার স্বামী এই সমিতিতে চাকরী করতে ছিলো তাই আমরা এখানে সাড় ৭ লাখ টাকা এফডিআর করি। আমরা কখনো বুঝিনী এরকম করে আমাদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে। আমরা ছাড়াও অনেক অসহায়-গরিব মানুষের কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চলে গেছেন ফরিদ উদ্দিন  ও সোহেল রানা।


আরেক ভুক্তভোগী মুর্শিদা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি একজন অত্যান্ত গরীব মানুষ আমার সারাজীবনের শখ ছিলো কিছু গহনা বানাবো। এ কারনে গরু পালন করি সেই গরু ২ লাখ টাকায় বিক্রি করি। সেই বিক্রির টাকা আমার কাছে থেকে নেয় আর বলে যখন দরকার তখনি দিবে সে আমাকে। তারা আমাকে লোভ দেখায় লাভ দিবে। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে তাদেরকে টাকা দিই। কিছুদিন লাভ দেওয়ার পর আর কোন লাভ তারা দেয়নি। আমার দেখাদেখি আমার মেয়ে দিপা টাকা রাখে ২ লাখ, ছেলে সুলতান মাহমুদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা রাখছে। আমার পরিবারের সবাই টাকাটা না পেলে  নিঃস্ব হয়ে যাবে। প্রতিদিন তাদের খোঁজে এখানে আসি। আমি আমার টাকা ফেরত চাই, ফরিদ ও সোহেলর শাস্তি চাই।


জহুরুল ইসলাম নামের একজন বলেন, আমার বড় ভাই প্রতিবন্ধী, সে রুটির ফ্যাক্টরীতে কাজ করে। তার দিনপাট চলা খুব কঠিন সেখান থেকে লাভের আশায় এখানে ১ লাখ টাকা জমা রাখছিলো। সেই টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য তাদের কাছে বারবার আসলেও তারা টাকা ফেরত দেয়নি। সেই টাকা নিয়েও ফরিদ ও সোহেল পালিয়েছে।  


এ বিষয়ে সুর্য্যের আলো সমবায় সমিতির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক  সোহেল রানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ও তাদের ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।  


সারিয়াকান্দি উপজেলা সমবায় অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন- এই ঘটনা জানার পর থেকে বিভিন্ন মিটিং করেছি। যাতে ভুক্তভোগী  আমানতকারীদের টাকা তারা ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু সমিতির সভাপতি ফরিদ কখনো আমার সাথে দেখা করেনি। এই সমিতির উপর অডিট জরে আরেক উপজেলার সমবায় অফিসার এবং রিপোর্ট পেশ করেছে৷ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলে তাদেরকে আইনগত সহযোগিতা করা হবে। 


সারিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত নুর আলম বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা লিখিত অভিযোগ করলে এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, আমাদের কাছে এখন লিখিত কোন অভিযোগ আসেনি। আমানতকারীরা লিখিত অভিযোগ দিলে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 















Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy