প্রকাশ: রোববার, ৭ জুন, ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম আপডেট: ০৭.০৬.২০২৬ ৫:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৩৫)

X
নাটোরে মাইকিং করে গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১৬
নাটোরের বড়াইগ্রামে কিশোর-কিশোরীর প্রেমঘটিত বিরোধের জেরে মাইকিং করে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হয়ে রোববার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের শিবপুর ও নারায়ণপুর গ্রামবাসীর মধ্যে এ সংঘর্ষ চলে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২৯ মে প্রেমঘটিত বিষয়ে গোপালপুর মৃধাপাড়া গ্রামের আবিরের সঙ্গে শিবপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের ধাক্কাধাক্কি হয়। এর জেরে শুক্রবার আবির ও তার স্বজনরা শিবপুর গ্রামের সজীব এবং সেখানে উপস্থিত গড়মাটি গ্রামের ব্যবসায়ী আবু হানিফকে মারধর করে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গড়মাটি কলোনি থেকে হানিফের স্বজনরা লাঠিসোঁটা নিয়ে শিবপুর বাজারে যান। সেখানে গোপালপুর কলোনি ও শিবপুরবাসীর সঙ্গে তাদের ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে।
রোববার সকালে গোপালপুর, শিবপুর ও পাশের নারায়ণপুর গ্রামের লোকজন একত্রিত হয়ে মাইকে ঘোষণা দেন। এরপর তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিবপুর বাজারে অবস্থান নেন এবং গড়মাটি গ্রামের ভ্যানচালক নিশাত রহমানকে (৩০) পিটিয়ে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির লোকজনও মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে শিবপুর গ্রামের কিশোর মাহিম হোসেনকে (১৬) মারধর করলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে রোববার দুপুরে বড়াইগ্রামের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় এবং ওসি আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে শিবপুর গ্রামের ওয়াজ প্রামাণিকের (৭০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড় বলেন, "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।"
ইউএনও লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।