থানার সামনে লাশ নিয়ে জনতার বিক্ষোভ, নেপথ্যে কী?

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আফাজ উদ্দিন (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর তিনদিন হলেও থানায় মামলা না নেওয়ায় উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের

2026-06-08T20:28:00+00:00
2026-06-08T20:28:00+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
থানার সামনে লাশ নিয়ে জনতার বিক্ষোভ, নেপথ্যে কী?
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৬৮)
নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা
X

নীলফামারীর সৈয়দপুর থানা

নীলফামারীর সৈয়দপুরে আফাজ উদ্দিন (৬২) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুর তিনদিন হলেও থানায় মামলা না নেওয়ায় উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের কাচারীপাড়া এলাকা থেকে রোববার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে শতাধিক মানুষ লাশ নিয়ে সৈয়দপুর শহরে প্রবেশ করে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা সৈয়দপুর থানার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে শেরেবাংলা সড়ক অবরোধ করেন।

এতে সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের উভয় পাশে শত-শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং থানা এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ এজাহার নথিভুক্ত করলেও বিক্ষুব্ধ জনতা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। তারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র অপসারণ দাবি করে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে থানা চত্বর ও আশপাশ এলাকায় এ পরিস্থিতি বিরাজ করে।

জানা গেছে, গত বুধবার (৩ জুন) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারীপাড়ায় আফাজ উদ্দিনের (৬২) বড় ছেলে নুর হোসেনের নির্মাণাধীন বাড়িতে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন দেয়। তবে ঘটনার সময় নুর হোসেন সেখানে না থাকায় পুরোনো বাড়িতে থাকা তার বাবা আফাজ উদ্দিন আগুনে দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 

পরে অবস্থার অবনতি হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং সেখান থেকে একইদিন ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের ছোট ছেলে আবু বকর সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে গাছের ঝরা পাতা কুড়ানোকে কেন্দ্র করে একই ইউনিয়নের মাঝাপাড়া এলাকার আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুস সালাম চঞ্চলের সঙ্গে তাদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই সময় চঞ্চল তার বড় ভাইকে মারধর করে এবং মোবাইল ফোন ভেঙে দেয়।

তিনি দাবি করেন, সেই ঘটনার জের ধরে গত ৩ জুন রাতে তারাগঞ্জ বাজারে তার ভাইকে আটকিয়ে মারধর করা হয়। পরে প্রতিশোধ নিতে চঞ্চল ও তার পরিবারের সদস্যরা তার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন ঘরে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু ঘটনাক্রমে ভাই সেখানে না থাকায় বৃদ্ধ বাবা এই নৃশংসতার শিকার হন।

আবু বকর সিদ্দিক আরও বলেন, বাবা ঢাকার বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আমরা থানায় অভিযোগ দিলেও তিন দিনেও মামলা নেওয়া হয়নি। উল্টো ছয়লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়েই আমরা লাশ নিয়ে থানায় এসেছি। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রেজা বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্ত করেছে। তবে আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লিখিত অভিযোগ দিতে আসেননি। পরে একটি এজাহার জমা দেওয়া হলেও তাতে কিছু ত্রুটি থাকায় সংশোধনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, পুলিশ নিজেরাই এজাহার সংশোধন করে দিতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি। আজ সকালে আসতে বললেও তারা লাশ ও লোকজন নিয়ে থানায় এসে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। ইতোমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, পূর্ব শত্রুতার জেরে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy