
X
বানিয়াচংয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে বানিয়াচং থানার ওসিসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।
সোমবার (৮ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ইউনিয়নের কালাইনজুড়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৭নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদ আহমেদ গত বছরের জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। তার অনুপস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল, যিনি স্থানীয় যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত।
সম্প্রতি আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ স্বপদে বহাল হওয়ার জন্য উচ্চ আদালত, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লাভ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল দায়িত্ব হস্তান্তরে গড়িমসি করতে থাকেন।
এ অবস্থায় সোমবার সকালে ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদের সমর্থনে কদুপুর ও নোয়াগাঁও গ্রামের লোকজন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান কপিলের সমর্থনে হলদারপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সকাল প্রায় ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলার মুখে পড়েন। এ সময় বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হকসহ অন্তত চারজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জের পাশাপাশি পাঁচটি সাউন্ড গ্রেনেড ও একাধিক টিয়ারগ্যাস শেল নিক্ষেপ করে। পরে সংঘর্ষরত উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, “মহামান্য হাইকোর্ট, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার লিখিত নির্দেশনা নিয়ে আমি পরিষদ কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাই। কিন্তু পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজানুর রহমান কপিল ও তার সমর্থকরা আমাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে আমার অনেক সমর্থক আহত হয়েছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল বলেন, “প্রায় ১০ মাস চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় আমি দায়িত্ব পালন করেছি। তিনি বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে পরিষদে আসার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।”
এ বিষয়ে বানিয়াচং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ নাজমুল হক বলেন, “চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ জানান, “দুই পক্ষের পূর্ব বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”