
X
ছবি: প্রতিনিধি
সরকারি সুবিধা ও বিভিন্ন ধরনের কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে শরৎনগর বাজারস্থ নিজ দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতারক বিএনপি নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি। এ সময় বিএনপি নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান এবং কাউসার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে প্রতারণার অভিযোগে উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি সোহেল রানাকে ধরে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা বিএনপি এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়নি।
এ ঘটনায় শনিবার (৬ জুন) রাতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার রাতেই পুলিশের দায়িত্বহীনতার কারণে থানা থেকে সোহেল রানা পালিয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোহেল উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সোহেল রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন এবং ভাঙ্গুড়া ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আবার ভাঙ্গুড়ায় ফিরে আসেন। ফিরে এসে পুনরায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, ভাঙ্গুড়া বাজার, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা ও পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প, সরকারি প্রকল্পের ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী কোনো সুবিধা পাননি।
ফলে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীদের একাংশ সোহেল রানাকে আটক করে মারধরের পর শুক্রবার (৫ জুন) মধ্যরাতে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরদিন শনিবার (৬ জুন) একসঙ্গে ৩০ জন ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, “দলের পদে থাকা একজন নেতার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই দ্রুত ওই অভিযুক্ত নেতাকে দল থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা প্রয়োজন। কিন্তু এ বিষয়ে উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিনিয়র নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাই।”
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সরদার জাফর ইকবাল হীরক বলেন, অভিযুক্ত নেতা সোহেল রানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন বিএনপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।