
X
পথে বসার শঙ্কায় তিন কৃষক
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এক রাতের ব্যবধানে তিন কৃষকের সাতটি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের এমন তৎপরতায় এলাকায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার গভীর রাতে উপজেলার ঈশ্বরগঞ্জ ইউনিয়নের চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া এবং মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া গরুগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ছয় লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এ ঘটনায় চরহোসেনপুর পূর্বপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক ঈশ্বরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত প্রায় ২টার দিকে গোয়ালঘরে থাকা গরুগুলো দেখে ঘুমাতে যান আব্দুল মালেক। ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালঘরে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তালা ভেঙে গরুগুলো নিয়ে গেছে চোরেরা। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকলে তার ভাই আব্দুল খালেকও জানতে পারেন, তার গোয়ালঘর থেকেও তিনটি গরু চুরি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে আব্দুল মালেকের তিনটি এবং তার ভাই আব্দুল খালেকের তিনটি গরু চুরি হয়েছে। এছাড়া মাইজবাগ ইউনিয়নের হারুয়া গ্রামের রিপন মিয়ার একটি গরুও একই রাতে চুরি হয়েছে। রিপন মিয়ার গরুটির মূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
আব্দুল খালেক বলেন, “চুরি হওয়া গরুগুলোর মধ্যে দুটি ষাঁড় ও একটি গাভী ছিল। এগুলোর মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা। ঋণ পরিশোধ ও সংসারের অবস্থার উন্নতির আশায় গরুগুলো লালন-পালন করছিলাম। এখন সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি।”
আব্দুল মালেক জানান, তার একটি গাভী শিগগিরই বাচ্চা দেওয়ার কথা ছিল। পাশাপাশি দুটি বকনা গাভীও ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার গরু চুরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “গরুগুলো ছিল আমাদের পরিবারের ভরসা। দুধ বিক্রি করে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর পরিকল্পনা ছিল। চোরেরা শুধু গরুই নেয়নি, আমাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নও কেড়ে নিয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান হাসান মিলন বলেন, “একই রাতে একাধিক পরিবারের গরু চুরি হওয়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। খামারিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। চুরি প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।”
এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, “গরু চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চুরি হওয়া গরু উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।”