
X
ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ( জাবি ) নতুন উপ-উপাচার্য ( প্রশাসন ) হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গনিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম। গত শনিবার ( ৬ জুন ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট গণিতবিদ ও শিক্ষাবিদ। তিনি কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর এম. এ. উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। ১৯৯২ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৫.২ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করেন।
পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৭৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম বিভাগে এইচএসসি উত্তীর্ণ হন।
উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৯৮ সালে গণিতে স্নাতক (বি.এসসি.) পরীক্ষায় ৬৮.৫১ শতাংশ নম্বর অর্জন করে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এরপর একই বিভাগ থেকে ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর (এম.এসসি.) পরীক্ষায় ৭৫.৩৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
স্নাতকোত্তরে অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ’শরফুদ্দিন গোল্ড মেডেল’লাভ করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হওয়ায় ‘ড. সুরাত আলী খান গোল্ড মেডেল’অর্জন করেন।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার অংশ হিসেবে তিনি ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইরাসমাস মুন্ডাস’ স্কলারশিপের অধীনে জার্মানির হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও রোমানিয়া থেকে ‘অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিক্স অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স’ বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এ সময় তিনি ১০-এর মধ্যে ৯.৬২ ECTS স্কোর অর্জন করেন।
পরবর্তীতে ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত পোল্যান্ড, রোমানিয়া এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের যৌথ তত্ত্বাবধানে ইরাসমাস মুন্ডাস এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের অধীনে গবেষণা পরিচালনা করেন। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সালে তিনি ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।
এছাড়া অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বর্তমানে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর যুগ্ম-মহাসচিব এবং জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ঢাকা বিভাগের মনিটর হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তার রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সহকারী প্রক্টর ও হাউস টিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি ছিলেন।
বর্তমানে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য (২০১৭ সাল থেকে) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত সিনেট সদস্য (২০২৫ সাল থেকে) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী আল ফিসা হজরত জিসান বলেন, প্রথমে স্যারকে জানাই অভিনন্দন। স্যার যেহেতু প্রো-ভিসির (প্রশাসন) দায়িত্বে এসেছেন, তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি প্রত্যাশা করি যে তিনি ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তায় জোর দিবেন। একইসাথে, আমাদের প্রতিষ্ঠানের মেডিকেল সংস্কারে আরো জোর দিবেন। পূর্বে কিছুটা সংস্কার করা হলেও মাঝেমাঝেই অব্যবস্থাপনা দেখা যায় সেখানে। তাঁর মতো দক্ষ-যোগ্য ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় আমি বেশ আশান্বিত হয়েছি। আশা করি, তাঁর হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
আরেক শিক্ষার্থী মাইশা বলেন, তিনি একজন শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক। বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁকে পাশে পাওয়া যায়। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজ সন্তানের মতো খেয়াল রাখেন। তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অগ্রগতির তরান্বিত হবে বলে আশা করছি।
জানতে চাইলে নতুন এই উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) বলেন, প্রাথমিকভাবে, আমি শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সব মত ও পথের সহাবস্থান নিশ্চিত করব। রাজনৈতিক সহিংসতা কখনোই হতে দেওয়া হবেনা। গণরুম ও গেস্টরুমের কালচার যেন আর না ফিরে আসতে দেওয়া হবেনা। বর্তমানে যে সুন্দর পরিবেশ আছে এটিকে আরও উচ্চ মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করব। এছাড়াও, বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে গাফিলতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে (সবার ক্ষেত্রে নয়)। তাদের কাজে ও দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা নিশ্চিতে কাজ করব।