
X
ছবি: প্রতিনিধি
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের পুরাতন তিনতলা ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের সিঁড়িতে ভয়াবহ ফাটল, কংক্রিট খসে ভেতরের মরিচাধরা রড বেরিয়ে আসা এবং বিভিন্ন স্থানে প্লাস্টার ধসে পড়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। সিঁড়ির কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে গেছে। অনেক স্থানে রডে মরিচা ধরে ফুলে ওঠায় কংক্রিট চৌচির হয়ে পড়েছে। কয়েকটি কক্ষের ছাদের প্লাস্টারও খসে পড়ছে। এতে ভবনটিতে চলাচল করাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে উপজেলা নির্বাচন অফিস, যুব উন্নয়ন অফিস, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিস, হিসাবরক্ষণ অফিস, প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, উপজেলা তথ্য কেন্দ্র (তথ্য আপা) এবং পরিসংখ্যান ও সেটেলমেন্ট অফিসসহ মোট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতিদিন এসব দপ্তরে সেবা নিতে শত শত মানুষ আসেন। বিশেষ করে নির্বাচন অফিস, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও তথ্য কেন্দ্রে প্রতিদিনই থাকে উপচেপড়া ভিড়।
ভবনে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। সিঁড়ির ফাটল ও ছাদের অংশ খসে পড়ার ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
নির্মাণসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পানি চুইয়ে পড়ায় ভবনের ভেতরের রডে মরিচা ধরে ‘কংক্রিট স্পলিং’ বা ‘কংক্রিট ক্যানসার’ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত কাঠামোগত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না করলে ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটিতে থাকা সরকারি দপ্তরগুলোকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর এবং দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া বলেন, “আমাদের অফিসে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন। বিশেষ করে অনেকেই নতুন ভোটার হতে বা ভোটার স্থানান্তরের কাজে এখানে আসেন। ভবনটি এমনিতেই অনেক পুরাতন, তার ওপর অফিসে প্রবেশের প্রধান সিঁড়িটির অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। সিঁড়িতে ওঠার সময় ফাটল দিয়ে ভেতরের রডগুলো পরিষ্কার দেখা যায়। যেকোনো মুহূর্তে এটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
তথ্য সেবা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “শুধু সিঁড়িই নয়, আমাদের অফিস কক্ষের ছাদেরও অন্তত তিনটি অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের আস্তরণ খসে পড়ছে। সিঁড়ি থেকে শুরু করে কক্ষের ভেতর—সব মিলিয়ে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছি। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা সুদীপ কুমার দেব বলেন, “কার্যালয়ের পুরাতন ভবনের সিঁড়ির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন আমি, আমার সহকর্মী এবং অসংখ্য সাধারণ মানুষ এই সিঁড়ি ব্যবহার করে আসা-যাওয়া করি। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জননিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত সিঁড়িটি সংস্কার কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।”