
সংগৃহীত ছবি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি ঘরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নাশকতা বাজার এলাকায় বাবুল বয়াতীর বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ঘরে থাকা গৃহবধূ ফেরদৌস বেগম (২৬) বলেন, “রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কোনো কথা না বলে আমার বাসার দরজা-জানালা ও ঘরের বেড়ার টিন পিটিয়ে ভেঙে ফেলে এবং আলমারিও ভাঙচুর করে আমাদের একই বাড়ির নসু বয়াতীর ছেলে বসির বয়াতি (৩০)।”
এ বিষয়ে টিনের ঘরের মালিক মাহবুব বয়াতি (৩০) বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার বাসার দরজা-জানালা এবং ঘরের বেড়ার টিন ভাঙচুর করেছে বসির বয়াতি।”
মাহবুব বয়াতির বাবা বাবুল বয়াতি (৬০) বলেন, “আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। বসির বয়াতি আমার মেয়ের জামাই। সে আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত মারধর করে। তারপরও আমি কিছু বলি না। গায়ের জোরে চলে। এবার আমার ছেলের ঘর ভাঙচুর করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
বাবুল বয়াতির স্ত্রী ও মাহবুব বয়াতির মা চানভানু বেগম (৫০) বলেন, “বসির বয়াতির অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। সে আইন-কানুন কিছুই মানে না। গায়ের জোরে চলে। আমরা তার বিচার চাই।”
বসির বয়াতির স্ত্রী মাফি বেগম (২৫) বলেন, “আমার স্বামী কাউকে মানে না। প্রতিদিন আমাকে মারধর করে। আমি সিজারিয়ান রোগী। কাল রাতে হঠাৎ আমার বড় ভাইয়ের বাসা ভাঙচুর করেছে। আমার শ্বশুর নসু বয়াতির এ বিষয়ে অনেক ইন্ধন রয়েছে। আমার শ্বশুরের কারণেই আমার স্বামী এত সাহস পায়।”
এ বিষয়ে প্রতিপক্ষ বসির বয়াতির মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বসির বয়াতির বাবা নসু বয়াতি বলেন, “আমার ছেলে জানালা, দরজা ও টিন ভাঙচুর করেছে। আমি তাকে দুই-তিনটি থাপ্পড় দিয়েছি।”
গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য দেলয়ার মিয়া বলেন, “আমাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আমি বিকেলে ঘটনাস্থলে যাব।”
গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু বলেন, “ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি শুনেছি। দুই পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মীমাংসার ব্যবস্থা করব।”
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ফেরদৌস বেগম গলাচিপা থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন।