
X
বরযাত্রীর গাড়ি
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বরযাত্রীর বহর এখন একটি আতঙ্কের নাম। এই আতঙ্কে এলাকার মানুষজন প্রতিনিয়ত অস্বস্তিসহ চরম বিরক্তিতে ভুগছেন। তাই, এ থেকে পরিত্রাণ পেতে এলাকার মানুষজনের মাঝে এ ব্যাপারে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।
দীর্ঘদিন থেকেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে, বিয়ের অনুষ্ঠান সারতে বিয়ে বাড়ির লোকজনের মধ্যে গায়ে হলুদ, বিদায়, বৌ-ভাত ও বরযাত্রী গমণের কাজ করতে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাসহ গ্রামগুলোতে বিকট শব্দে গান-বাজনা বাজানোর পাশাপাশি বিকট শব্দের পটকার আতশবাজি ফুটানো হচ্ছে, এখন আবার তার সাথে নতুন করে যোগ হয়েছে বরযাত্রীর আগে মোটর-সাইকেলের বহরে সাইলেন্সার খোলা বিকট শব্দের মোটর-সাইকেলের বহর। এ যেনো কোনো অনুষ্ঠানের অংশ নয়, এটা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃত্যুফাঁদ।
কথা হলে ভুক্তভোগী এলাকার অনেক মানুষজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শহরের মধ্যে ধন্যাঢ্য উর্দূভাষীদের বসবাস বেশী। এবং তাদের মাঝেই লক্ষ্য করা যায়, বিভিন্ন সিটি ও কনভেনশন সেন্টারে উচ্চ-মানের খানা-পিনার ব্যবস্থাসহ আতশবাজি ও পটকার বিকট শব্দে অনুষ্ঠান মাতিয়ে তোলার কালচার। অবশ্য মাঝে-মাঝে অনেক ধন্যাঢ্য বাঙালিদের মাঝেও এ কালচার দেখা গেছে।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন হচ্ছে, এরকম অনুষ্ঠানে আনন্দ করাটা স্বাভাবিক। কিন্তু, এলাকাবাসীর বিরক্ত সৃষ্টি করে, শহরের সড়কগুলোতে যানজট করে, আতশবাজি ও বিকট শব্দের পটকা ফুটিয়ে এ ধরণের আনন্দটা কাকে দেখানোর জন্য? কারণ হিসাবে ভুক্তভোগীরা প্রশ্ন রেখেছেন এমন শব্দে পটকা ফুটানো হয়, এসময় যদি সুযোগ-সন্ধানি কেউ তার শত্রুকে এরকম জায়গায় দেখে গুলি করে হত্যা করে তাও কেউই বুঝতে পারবেনা যে, কাউকে খুন করা হয়েছে।
আর এমন শব্দে পটকা ফুটানো ও সাইলেন্সার বিহীন মোটর সাইকেলের বিকট শব্দে এলাকার বিশেষ করে যারা হৃদরোগী তারাসহ বয়স্ক ও শিশুরা ও পথচারীরা চরম আতঙ্কে পড়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী জানান, তিনি পটকার বিকট শব্দে ভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এরকম অভিযোগ আরো অনেকেরই। তারা জানতে চেয়েছেন আনন্দ মানে তো সাধারন মানুষজনকে বিরক্ত করা নয়। অথচ, এ ব্যাপারে প্রশাসনের যেনো কোনো ভুমিকাই নেই?
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রেজাউল করিম রেজা জানান, এ ব্যাপারে মানুষজনকে সচেতন হতে হবে। কারণ, কারো অসুবিধার সৃষ্টি হয় এমন কাজ আইন-পরিপন্থী। এরকম ঘটনা কেউ যদি প্রত্যক্ষ করেন তাহলে আমাদের জানালে আমরা সাথে-সাথে ব্যবস্থা নেবো। এ জন্যে আমাদের মোবাইল টিম রয়েছে। ঘটনা অবগত হলেই তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর পৌরসভার প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলার মোবাইল ফোনে দুটি মোবাইল নম্বর থেকে কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।