
X
কুমিল্লায় পুলিশের বিরুদ্ধে দুই গৃহবধূকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর অভিযোগ: সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় দুই শিশুসন্তানসহ শেফালী আক্তার ও লিজা আক্তার নামে দুই গৃহবধূকে গ্রেফতার করে হয়রানীর অভিযোগ ওঠেছে।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে রোববার (১৪ জুন) বিকালে নগরীর টমছমব্রিজ এলাকার সৈয়দ ম্যানশনে সংবাদ সম্মেলন করেন শেফালী আক্তারের স্বামী কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. নেয়ামুল কবির।
নেয়ামুল কবির সাংবাদিকদের বলেন, তার স্ত্রী শেফালী আক্তারের ৫ ভাই। এদের মধ্যে মো. আলিম পুলিশের এসআই, আক্তার হোসেন এটিএসআই, মান্নান সৌদি প্রবাসী এবং ইকবাল ও জালাল ব্যবসায়ী। জালাল ও মান্নানের মধ্যে টাকার লেনদেন এবং ভাইদের মধ্যে বাড়ির ভাগ-বন্টন নিয়ে বিরোধ চলছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে মান্নানের পরিবার গত ২ জুন রাতে ইকবালকে মারধর করে। পরে আহত ইকবালকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার পরদিন বাড়িতে পুলিশ আসে। পুলিশ ইকবালের রক্তমাখা কাপড়-চোপড় দেখতে পেলেও উল্টো ইকবালের পরিবারকেই শাসিয়ে যায়। পারিবারিক দ্বন্দ্বের খবর পেয়ে মো. আলিম ঘটনার মিমাংসা করে দেবেন বলে জানান।
নেয়ামুল কবির বলেন, পরদিন রাতে মান্নান ফের বহিরাগত লোকজন নিয়ে ইকবাল ও জালালের ঘরে ঢুকে হামলা চালায়। পরে ইকবাল ও জালালসহ আহতদের হাসপাতালে নেয়া হয়। এদিন গভীর রাতে পুলিশ গিয়ে পুরুষশূণ্য ওই বাড়ি থেকে তার স্ত্রী শেফালী আক্তার, ইকবালের স্ত্রী লিজা আক্তার ও তার দুই শিশুকন্যা মিম (১), মরিয়মকে (৩) গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পুলিশ ভয়ভীতি দেখিয়ে মোবাইল, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে কোনো মহিলা পুলিশ ছাড়া সারারাত ঘুরিয়ে ভোরে থানায় নিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেয়।
পরে পুলিশ বলে, ইকবাল ও জালালকে হাজির করতে পারলে তাদের ছেড়ে দেবে। কিন্তু তারা ইকবাল ও জালালকে হাজির করতে পারেনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই ফরহাদ মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
এ মামলায় জড়িয়ে শেফালী এবং লিজাকে তার দুই শিশু সন্তানসহ পর দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠায়। দীর্ঘসময় পুলিশ হেফাজতে অভুক্ত থাকায় দুই শিশুসহ শেফালী ও লিজা অসুস্থ হয়ে পড়ে। এক সপ্তাহ কারাভোগের পর তারা গত বৃহস্পতিবার জামিন লাভ করেন। পরদিন কারাগার থেকে বের হওয়ার পর অসুস্থ দুই শিশুসন্তানসহ তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নেয়ামুল কবির বলেন, মামলায় উল্লেখ করা হয়- ৩ জুন রাতে হামলাকারী অপরিচিত ৩ জন লোক পুলিশের সদস্য ছিলেন। পক্ষাবলম্বনপূর্বক মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে অতিউৎসাহী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেছেন এবং মো. আলিম পুলিশের এসআই পদে কর্মরত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েও এজাহারের ভেতরের বর্ণনায় রহস্যজনকভাবে ‘মো: আলিম’ নামটি জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ভাইয়ে-ভাইয়ে সংঘাত ও পুলিশকে লেলিয়ে দেয়ার উস্কানিদাতা এটিএসআই আখতার হোসেন। সে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশকে ম্যানেজ করে এলাকায় জুয়ার আসর চালিয়ে আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক হয়রানি ও মিথ্যা অভিযোগের হাত থেকে রক্ষার জন্য দাবি জানানো হয়।