
X
পবিপ্রবির তিন অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্যের মতবিনিময়
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন।
এ সময় তিনি শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অনুষদে বিদ্যমান শিক্ষক ও জনবল সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সোমবার (১৫ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি অনুষদে পৃথকভাবে আয়োজিত এসব সভায় সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনদের সভাপতিত্বে উপাচার্য প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাগুলোর শুরুতে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
সকাল ১০টায় ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাব্বির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা অংশ নেন। পরে সকাল ১১টায় সিএসই অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খোকন হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনুষদের শিক্ষকরা শিক্ষা ও গবেষণাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। একই দিন দুপুর ১২টায় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনুষদের সার্বিক উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভাগুলোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণশক্তি তার শিক্ষক সমাজ। শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি বলেন, “আপনাদের সকলের সহযোগিতায় আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে চাই। আমরা সবাই মিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়কে আমাদের স্বপ্নের মতো করে সাজাতে চাই।”
শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, “শিক্ষকদের উচিত শিক্ষার্থীদের আরও কাছাকাছি যাওয়া, তাদের সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ, নৈতিক চর্চা ও একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদে বিদ্যমান শিক্ষক ও জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবল ঘাটতি দ্রুত নিরসনের জন্য প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে পবিপ্রবিকে একটি আধুনিক, মানবিক ও উৎকর্ষতার বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করাই প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।
উল্লেখ্য, সভাগুলোতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি এবং অনুষদভিত্তিক বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় উপাচার্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।