প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ এএম (ভিজিট : ৪১)

X
ফাইল ছবি
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আল আমিন নামে এক মাদরাসাছাত্রের বিরুদ্ধে ধর্ষণের সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে এক সাংবাদিকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে। সোমবার (১৫ জুন) ভুক্তভোগী চৌদ্দগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা ৩ নম্বর বিবাদী দৈনিক কালের কণ্ঠের চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি, কাশিনগর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের মো. রানা প্রকাশ আবুল বাশার রানা।
অভিযোগে জানা যায়, বাদী উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আল আমিন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার কামিল প্রথম বর্ষের ছাত্র। আর বিবাদীরা হচ্ছেন একই গ্রামের মৃত তাজুল ইসলাম মুহুরীর ছেলে নুর হোসেন রাজিব (সম্পর্কে আল আমিনের ফুফাতো ভাই), বিডিআর রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. রনি এবং পার্শ্ববর্তী যাত্রাপুর গ্রামের মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মো. রানা প্রকাশ সাংবাদিক আবুল বাশার রানা ও অজ্ঞাত আরও দুই সাংবাদিক।
আল আমিনের অভিযোগ, রোববার রাত ৮টায় তার ফুফাতো ভাই নুর হোসেন রাজিব তাকে ফোন করে মিয়াবাজারে মো. রনির মোটরসাইকেল গ্যারেজে যেতে বলে। কিছুক্ষণ পর সে গ্যারেজে গেলে সেখানে উপস্থিত রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলী আশরাফের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নুর নবী, সাংবাদিক মো. রানাসহ অজ্ঞাতনামা ওই দুই সাংবাদিক (অবশ্য আল আমিন তার ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিক এমরান হোসেন বাপ্পির নাম উল্লেখ করেন) আল আমিনের বিরুদ্ধে এক নারীকে শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত একটি ঘটনার অনেকগুলো ছবি ও তথ্য-প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাংবাদিকদের ৩ লাখ টাকা প্রদানের দাবি করেন।
তাদের এ প্রস্তাবে রাজি না হলে আল আমিনের বিরুদ্ধে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
তাদের এ অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাংবাদিকরা আল আমিনকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়। ঘটনার একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয়ধারী একজন জোরপূর্বক আল আমিনের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং সেটি আনলক করার জন্য তাকে চাপ দেয়। আল আমিন এতে অস্বীকৃতি জানালে ওই ব্যক্তি তার শার্টের কলার চেপে ধরে টানাহেঁচড়া করে মোবাইলটি ছিনিয়ে নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এ সময় তারা আল আমিনকে কোনো ধরনের আইনের আশ্রয় না নেওয়ারও হুমকি দেয়। বর্তমানে আল আমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি সাংবাদিকদের কাছে রয়েছে বলেও সে জানায়।
সোমবার রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বাদী আল আমিন এই প্রতিবেদককে জানান, অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে থানায় দায়ের করা অভিযোগটি তুলে নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল থেকে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নানাভাবে তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।
অভিযুক্ত ৩ নম্বর বিবাদী কালের কণ্ঠের চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি আবুল বাশার রানা সাংবাদিকদের কাছে প্রথমে অভিযোগটি অস্বীকার করলেও পরে জানান, “আমি সহকর্মী সাংবাদিক এমরান হোসেন বাপ্পির ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। আমি সেখানে ঘটনা মীমাংসা করার চেষ্টা করেছি।” তবে তিনি চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক নুর নবী সোমবার বিকেলে বলেন, “এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে থানায় ডেকেছি। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”