
X
ছবি: প্রতিনিধি
শিশু ও যুবদের নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু সুরক্ষা জোরদার এবং একটি নিরাপদ, শিশুবান্ধব সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের উদ্যোগে এমওটিএস মিলনায়তনে “শিশু সুরক্ষায় শিশু ও যুব কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম উপস্থাপন” শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল শুরু হওয়া এ আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়নকর্মী, ধর্মীয় নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি, শিশু ও যুব প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিশু প্রতিনিধি ফাতেমা ইসলাম তাজ ও আয়ান তাহমিদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ দেয়। এরপর শিশু শ্রম নিরসন ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে একটি সচেতনতামূলক নাটিকা মঞ্চস্থ করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের গভীরভাবে আলোড়িত করে।
দিনব্যাপী এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিশু ও যুবদের অংশগ্রহণে শিশু ও কমিউনিটির উদ্যোগে বিভিন্ন স্টল প্রদর্শনী, আলোচনা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও শিশু সুরক্ষা নীতি, শিশু অধিকার, শিশুশ্রম নিরসন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সচেতনতা, যুব নেতৃত্ব এবং কমিউনিটি উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিশু ও যুব প্রতিনিধিরা তাদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশেষভাবে শিশুশ্রম প্রতিরোধ, প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তা, কমিউনিটি নেতৃত্ব, স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে তাদের কার্যক্রম উপস্থিত সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ও হেলথ ক্যাম্প সম্পর্কেও তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
মুক্ত আলোচনা পর্বে পারিবারিক সহিংসতা থেকে বেঁচে ফেরা শিশু, শিশুশ্রম থেকে মুক্ত কিশোর এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পরিবার তাদের জীবনসংগ্রাম ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষায় ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) ড. মো. মাহমুদুল হক বলেন, শিশু ও যুবদের নেতৃত্বে পরিচালিত এ ধরনের উদ্যোগ সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং শিশু সুরক্ষায় সকল অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সিনিয়র অপারেশন ডিরেক্টর চন্দন জেড গোমেজ সংস্থাটির চলমান শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম তুলে ধরে শিশু ও যুবদের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে একটি শিশুশ্রমমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের একটি মানবিক পর্বে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা শিশু ও শিশুশ্রমে নিয়োজিত পরিবারের মাঝে আয়বর্ধনমূলক উপকরণ (আইজিএ) এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একটি নিরাপদ ও শিশুবান্ধব নগর গড়ে তুলতে হলে শিশু অধিকার রক্ষায় সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট বলেন, শিশু ও যুবদের নেতৃত্বে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে একটি টেকসই, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল অতিথি, শিশু ও যুব প্রতিনিধি এবং আয়োজক কমিটির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের জেনি মিলড্রেভ ডি ক্রুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আরবান প্রোগ্রাম ম্যানেজার জোয়ান্না ডি রোজারিও, আরবান প্রোগ্রাম টঙ্গী ম্যানেজার মানুষ বিশ্বাস, ইস্ট এডিপি ম্যানেজার ডমিনিক সেন্টু গোমেজ, অ্যাডভোকেসি লিড স্ট্রালা রূপা মল্লিক, ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর মো. জামাল উদ্দিন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।