প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১১:০৪ এএম (ভিজিট : ৩০)

X
ছবি: প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর কালুখালীতে হাওলাতি টাকা পরিশোধ করতে না পারায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আশাদুল ইসলামকে (২২) হত্যার পর মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলার রহস্য উদ্ঘাটন ও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আশাদুল কালুখালী উপজেলার বিল মানুষমারী গ্রামের শাহজাহান মণ্ডলের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কালুখালী উপজেলার মদাপুর গ্রামের কাউসার শেখের ছেলে মো. মিজান শেখ (২৪), পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের আসমত মণ্ডলের ছেলে মো. আনোয়ার মণ্ডল (৪৪) এবং সূর্যদিয়া গ্রামের শাহাজউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল করিম মোল্লা (৩৫)।
গত সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কালুখালী থানার মদাপুর ইউনিয়নের সূর্যদিয়া গ্রামের একটি মাদ্রাসার পেছনে পাটক্ষেত থেকে আশাদুল ইসলামের অগ্নিদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আশাদুল ইসলামের বাবা শাহজাহান মণ্ডল বাদী হয়ে সোমবার কালুখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে কালুখালী থানা পুলিশ ও রাজবাড়ী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড়ভাবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তদন্তকালে জানা যায়, আসামি মিজান শেখের কাছ থেকে আশাদুল ইসলাম চার মাস আগে ৬৮ হাজার টাকা ধার নেন। সময়মতো সেই টাকা পরিশোধ করতে না পারায় তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিজান শেখ ও তার সহযোগীরা আশাদুলকে হত্যা করে এবং পরে মরদেহে আগুন লাগিয়ে দেয়।
রাজবাড়ীর সহকারী পুলিশ সুপার (পাংশা সার্কেল) দেবব্রত সরকারের নেতৃত্বে কালুখালী থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল মঙ্গলবার (১৬ জুন) যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত মো. মিজান শেখ, মো. আনোয়ার মণ্ডল ও মো. আব্দুল করিম মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক বলেন, মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং অন্যান্য অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে আসামি মো. মিজান শেখ রাজবাড়ীর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি রক্তমাখা হেলমেট, একটি স্টেইনলেস স্টিল (এসএস) পাইপ (রড) এবং একটি লোহার ফোল্ডিং স্টিক উদ্ধার করা হয়েছে।