মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও সমন্বয়েই গড়ে উঠবে দক্ষ মানবসম্পদ: ইআইবি উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষা

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআইবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেছেন, ফাজিল ও কামিল ডিগ্রির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি

2026-06-30T16:27:52+00:00
2026-06-30T16:27:52+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ন ও সমন্বয়েই গড়ে উঠবে দক্ষ মানবসম্পদ: ইআইবি উপাচার্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৪:২৭ পিএম   (ভিজিট : ২৯)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইআইবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেছেন, ফাজিল ও কামিল ডিগ্রির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি অর্জিত হলেও বাস্তবে সরকারি চাকরি, উচ্চশিক্ষা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা এখনো কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন ও সমান সুযোগ থেকে বঞ্চিত। 

তিনি ফাজিল–কামিল ডিগ্রিধারীদের জন্য সুস্পষ্ট স্বীকৃতি, সমঅধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগোপযোগী ও আধুনিক করে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দক্ষ, যোগ্য ও প্রতিযোগিতামূলক মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের আগে স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে হবে। সাধারণ শিক্ষা ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রয়োজন নীতিগত উদ্যোগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, এই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান শুধু পুরস্কার প্রদান নয়। এটি যোগ্যতার স্বীকৃতি, মেধার মূল্যায়ন, অধ্যবসায়ের প্রতি সম্মান এবং শিক্ষা উৎকর্ষের এক অনন্য আয়োজন। যে জাতি জ্ঞানকে সম্মান করে, সে জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছায়। ইসলামও জ্ঞান অর্জনকে ইবাদতের মর্যাদা দিয়েছে। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। বহু আলেম-ওলামার দাবির প্রেক্ষাপটে ২০০৬ সালে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে ফাজিল ও কামিল শিক্ষাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, প্রকৃত সাফল্য শুধু ভালো ফলাফলে সীমাবদ্ধ নয়। সততা, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলাই প্রকৃত অর্জন। বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে আলেম, গবেষক, শিক্ষক, বিচারক, প্রশাসক ও জাতীয় নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের কারিগর। শিক্ষকদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার কারণেই শিক্ষার্থীরা দেশের সম্পদে পরিণত হচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে উপাচার্য বলেন, আগে বহু মাদ্রাসায় ছাত্রাবাস ব্যবস্থা ছিল, যা সময়ের সঙ্গে বিলুপ্ত বা অন্য ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়েছে। ফলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে। তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন, খাবার ও অন্যান্য সহায়তা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy