
X
পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে সরকার
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের পেছনের পরিকল্পনা সরকার খতিয়ে দেখছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আরবিতে কালেমা লেখা পতাকা উত্তোলনের বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে উপদেষ্টা বলেন, ‘খুব বিস্তারিত বলছি না, এইটা সরকার কগনিজেন্সে (আমলে নেওয়া) নিয়েছে, সরকার এটা দেখেছে। এটার সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক থাকার কোনো কারণ নেই। বরং এটা সরকার খতিয়ে দেখছে এবং সেটা কেন হচ্ছে। কারণ এটা নিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভুল বার্তা যাওয়ার সম্ভাবনা (আশঙ্কা) আছে গ্লোবালি, এ ব্যাপারে আমরা সচেতন আছি।’
ভারতে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার করা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের প্রচার আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি এবং আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ ধরনের প্রচার থেকে সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিৎ বিরত থাকা।
এই বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।’
তবে সরকার এখনই কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না মন্তব্য করে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা আশা করি, দেশের সংবাদমাধ্যম আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এ ধরনের প্রচার থেকে বিরত থাকবে। বর্তমানে প্রযুক্তির যুগে বিদেশি সংবাদমাধ্যম বা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মানুষ বিভিন্ন তথ্য জানতে পারে। তবে সেটি দেশীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারের বৈধতা তৈরি করে না।’
আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা পর্যন্ত এ ধরনের প্রচার অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সরকার বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
ব্রিফিংয়ে ‘রিফর্মড’ বা নতুন নামে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচি যতদিন নিষিদ্ধ থাকবে, ততদিন দলটি যে নামেই আসুক না কেন ‘রিফর্মড আওয়ামী লীগ’, ‘তৃণমূল আওয়ামী লীগ’ বা অন্য কোনো নামে, তাদের কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনার সুযোগ নেই। সরকারের অবস্থান এ বিষয়ে স্পষ্ট। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস দমন আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর রেখেই আওয়ামী লীগের কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অনেক অধ্যাদেশ আইন হিসেবে বহাল না থাকলেও এ সংশোধনী বহাল রাখা হয়েছে, যা সরকারের অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জাহেদ উর রহমানের ভাষ্য, দলটি নিষিদ্ধ থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সরকারের মত হল, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল ‘থাকা উচিত’।