
X
সংগৃহীত ছবি
দেশের উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও সেবার পরিবেশ উন্নত করতে সারাদেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার সশস্ত্র অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দালালচক্র, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আজ বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ।
তিনি বলেন, সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে থাকবেন একজন প্লাটুন কমান্ডার, একজন সহকারী প্লাটুন কমান্ডার এবং আটজন আনসার সদস্য। তারা ২৪ ঘণ্টা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান দায়িত্ব।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশিদ বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালচক্র, অবৈধ অ্যাম্বুলেন্স বাণিজ্য, ওষুধ চক্র এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আনসার সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আনসার সদস্যরা ইতোমধ্যে দক্ষতা, সততা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। নতুন দায়িত্বেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বাহিনীর অর্জিত সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে কোনো সদস্য অনৈতিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য নয়।
অতিরিক্ত মহাপরিচালক জানান, আনসার বাহিনীর নিয়োগ ও মোতায়েন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বর্তমানে আধুনিক সফটওয়্যারভিত্তিক যাচাই-বাছাই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এ পদ্ধতি যোগ্য সদস্য নির্বাচন ও বাহিনীর পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত করতে সহায়তা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সদস্যদের দক্ষতা, সততা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মলদোভাসহ বিভিন্ন দেশে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনসার সদস্য মোতায়েনের ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ অনেকাংশে দূর হবে। পাশাপাশি দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ, সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হাসপাতালের সরকারি সম্পদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম, পরিচালক (অঙ্গীভূতকরণ) মো. আব্দুল মজিদ, ঢাকা জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রাশেদুজ্জামানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।