কারাগারে যেমন আছেন ঐশী, কারা দেখতে যান তাকে?

অনলাইন ডেস্ক

অন্যান্য

একসময় বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, মেয়ে বড় হয়ে চিকিৎসক হবে, মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়

2026-07-02T11:36:06+00:00
2026-07-02T11:36:06+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
কারাগারে যেমন আছেন ঐশী, কারা দেখতে যান তাকে?
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৬ এএম   (ভিজিট : ৩৬৯)
ঐশী
X

ঐশী

একসময় বাবা-মায়ের স্বপ্ন ছিল, মেয়ে বড় হয়ে চিকিৎসক হবে, মানুষের সেবা করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয় । রাজধানীর চামেলীবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। 

একপর্যায়ে তাদের মেয়ে পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে পুলিশকে জানায়, বাবা-মাকে সে নিজেই হত্যা করেছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর বর্তমানে ঐশী গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

বর্তমানে ঐশী কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের ৭ নম্বর মহিলা ওয়ার্ডে রয়েছেন। ওয়ার্ডের অদূরেই রয়েছে কারাগারের লাইব্রেরি। 

সেখানে বই নিবন্ধকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। কারাবন্দীরা লাইব্রেরিতে গিয়ে বই পড়েন এবং বই নিবন্ধনের কাজ দেখভাল করেন ঐশী। এই দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তাকে অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হয়নি।

জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের স্বপ্ন ছিল তার মেয়ে চিকিৎসক হবে এবং মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডে বদলে যায় ঐশীর জীবন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঐশীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডই উপযুক্ত ছিল। 

তবে কয়েকটি বিশেষ বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজা কমানোর কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডটি সুস্পষ্ট কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া সংঘটিত হয়েছিল এবং ঘটনার সময় আসামীর মানসিক বিচ্যুতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ১৯ বছর বয়সে কারাজীবন শুরু হয় ঐশীর। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৫৭ ধারা অনুযায়ী যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মেয়াদ ৩০ বছর হিসেবে গণনা করা হয়। 

সে হিসাবে ইতোমধ্যে প্রায় ১৩ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন তিনি। আরও প্রায় ১৭ বছর কারাগারেই থাকতে হবে তাকে। 

তখন তার বয়স হবে প্রায় ৪৯ বছর। জানা যায়, মাঝে মধ্যে তার নানা বাড়ির স্বজনরা তাকে দেখতে কারাগারে গেলেও দাদা-দাদীর পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ তাকে দেখতে যান না।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত বিশেষ শাখার (এসবি) পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

ঘটনার পর তাদের মেয়ে ঐশী রহমান পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে বাবা-মাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় নিম্ন আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরে হাইকোর্ট সেই সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।





Loading...
Loading...


অন্যান্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy