
X
গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর শুধু ‘শোক ও দুঃখ’ প্রকাশ করলেও চার মাস পর শেষকৃত্যের সময়ে এসে তার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ শুক্রবার তেহরানে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
দুই স্পিকারের সাক্ষাতের খবর দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘মহামান্য’ আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ‘মর্মান্তিক মৃত্যুতে’ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এবং তার ‘নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নিন্দা’ জানিয়েছেন। জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের সরকার ও জনগণের প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সহমর্মিতা জানিয়েছেন তিনি।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। ব্যাপক হামলার মধ্যে ইরানও পশ্চিম এশিয়ার আরবদেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণে ওই দেশগুলোকে হামলার ‘বৈধ টার্গেট’ হিসাবে বর্ণনা করে তেহরান। সে সময় বাংলাদেশের অবস্থান ঘিরে সমালোচনা হয়।
হামলার শুরুর পরদিন এক বিবৃতিতে পশ্চিম দেশগুলোর ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানালেও তাতে ইরানের ওপর হামলার প্রসঙ্গ রাখেনি ররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যার বিষয়েও কিছু বলা হয়নি ওই বিবৃতিতে।
এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পরদিন ২ মার্চ আরেক বিবৃতিতে খামেনি মৃ্ত্যুতে ‘মর্মাহত’ হওয়ার কথা বলে ঢাকা। তবে সেখানে তাকে হত্যার নিন্দা জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই বিবৃতিতে বলেছিল, আন্তর্জাতিক আইন ও রীতির লঙ্ঘন করে এক ‘টার্গেটেড হামলায়’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হত্যাকাণ্ডের কথা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।
“বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।”
সরকারের এমন অবস্থানের মধ্যে ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রাহিমি জাহানাবাদী বলেছিলেন, ঢাকার কাছে তেহরান কোনো ‘যুদ্ধের রসদ’ চায় না, কেবল ‘আক্রান্ত হিসেবে সমর্থন’ চায়।
এরপর ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব আনা হয়েছিল। ইরানের পাল্টা হামলার মধ্যে ‘সংহতি’ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের লেখা চিঠি নিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে গেছেন তার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বৈঠকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন ইরান ও বাংলাদেশের মধ্যে ‘কয়েক শতাব্দীর বন্ধুত্ব’ এবং দুই দেশের মধ্যে ‘গভীর সাংস্কৃতিক ও মানুষে মানুষে বন্ধনের’ কথাও তুলে ধরেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের ক্ষেত্রে স্পিকার কলিবফের গঠনমূলক ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এই চুক্তি ইরানি জনগণ ও বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলটিতে ‘স্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি’ বয়ে আনবে।