কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো হবে: কৃষিমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাবাংলা

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে।

2026-07-04T13:52:18+00:00
2026-07-04T13:52:18+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো হবে: কৃষিমন্ত্রী
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ পিএম   (ভিজিট : ২৭)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা হবে। এতে কোন এলাকায় কোন ফসল কতটুকু উৎপাদিত হচ্ছে, কোথায় কত চাহিদা রয়েছে-এসব তথ্য সরকারের হাতে থাকবে।

ফলে উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার সমন্বয় করা সম্ভব হবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে। একইসঙ্গে কৃষক ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারবেন।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকার কৃষিকে আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় আনতে কৃষক কার্ড চালু করেছে।

এই কার্ডের আওতায় শুধু ধান, গম বা পাটচাষিই নন; লবণ, সুপারি, নারিকেল, পান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরাও অন্তর্ভুক্ত হবেন। এতে প্রকৃত কৃষকের সংখ্যা, উৎপাদনের ধরন ও ফসলভিত্তিক তথ্য সরকারের কাছে থাকবে।

ভবিষ্যতে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা এই কার্ডের মাধ্যমেই প্রকৃত কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পর্যায়ে সোলারচালিত মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কৃষক মৌসুমে উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণ করে সুবিধাজনক সময়ে বিক্রি করতে পারবেন এবং ন্যায্যমূল্য পাবেন।

কৃষিমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি খাল পুনঃখনন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি ভর্তুকি এবং কৃষকদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পরও কেন আমদানি করতে হয় -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের চাহিদার তুলনায় আবাদযোগ্য জমি সীমিত। এছাড়া হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রতিবছর কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা মোকাবিলায় আগাম পরিপক্ব ধানের জাত উদ্ভাবন এবং পানিবেষ্টিত এলাকায় ধান কাটার উপযোগী প্রযুক্তি ও যন্ত্র নিয়ে গবেষণা চলছে।

চট্টগ্রাম ফিশারি ঘাটের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থানীয় প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে। অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়া ও দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ঝাটকা সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখতে সরকার জেলেদের সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি তাদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা দাদননির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। সরকারের লক্ষ্য দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও ইলিশ রপ্তানি বৃদ্ধি করা।

তিনি আরও বলেন, নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, চর অপসারণ এবং উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে নতুন প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য কোস্টগার্ডের জনবলও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এসময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy