এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাইয়ের ভিডিও ভাইরাল

অনলাইন ডেস্ক

জাতীয়

বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে

2026-07-05T14:37:43+00:00
2026-07-05T14:37:43+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর: স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ভাইয়ের ভিডিও ভাইরাল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ৩৩)
লাল বৃত্তের কালো শার্ট পরিহিত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর হাত, ভিডিও থেকে নেওয়া
X

লাল বৃত্তের কালো শার্ট পরিহিত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর হাত, ভিডিও থেকে নেওয়া

বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী (আবাসন) হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে অণ্ডকোষ চেপে ধরে দুটি চেক ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর সদর রোডে অবস্থিত অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। তবে সিসিটিভি ফুটেজটি শনিবার (৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিনি আদালতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কক্ষে চারজন যুবক প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নামে এক ব্যক্তি তাকে মারধর করেন। 

একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দুটি চেক ও একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ঘটনার সময় আব্দুল আজিজকে ‘বাচ্চু, বাচ্চু’ বলে কাউকে ডাকতে শোনা যায়। পরে আরও একজন কক্ষে প্রবেশ করলে তাকে কিছুক্ষণ আটকে রেখে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার পুরো ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু নগরীর কাটপট্টি সড়কের বাসিন্দা। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বড় ভাই মাহবুবুর রহমান পিন্টু জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি।

ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ হাওলাদার বলেন, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় তাদের আবাসন ব্যবসার অংশীদার ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে হিসাব নিষ্পত্তি করা হয় এবং কোনো পাওনা নেই—এমন অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। এরপরও লিটু তার কাছে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে লিটু অফিসে প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে, শারীরিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে এবং অণ্ডকোষ চেপে ধরে জোরপূর্বক ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক এবং দুটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন।

আব্দুল আজিজ জানান, ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে অভিযোগ করায় ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন সম্ভব হয়নি। পরে তিনি আদালতে নালিশি মামলা করেন। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজটি তিনিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন বলেও জানান।

অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু তা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তারা সবাই অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন। তার দাবি, আব্দুল আজিজ তাদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তীতে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান পিন্টু বলেন, ‘এমডিকে হেনস্তার যে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি আগে কিছুই জানতাম না। আমি শুধু জানি, আমার ভাই বহু বছর ধরে অর্গানি হাউজিংয়ের সঙ্গে ব্যবসা করে। 

এর বাইরে তাদের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এমনকি হাউজিং অফিস কোথায়, সেটাও আমার জানা নেই। বর্তমানে তাদের মধ্যে কী ধরনের লেনদেন রয়েছে, সেটিও আমি জানি না। যদি আমার ভাই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে আলোচনা করত, তাহলে হয়তো বলতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘শারীরিক হেনস্তার ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজে সেখানে যাইনি। ভিডিওটিও আমি পুরোটা দেখিনি। তবে কয়েকজন আমাকে ঘটনাটির কিছু অংশ দেখিয়েছে।’

নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে পিন্টু বলেন, ‘আমার সঙ্গে তার কোনো রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই। আমাদের পরিচয় শুধু আমরা একই বাবার সন্তান। এর বাইরে রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি আমার রাজনীতি পরিচ্ছন্নভাবে করার চেষ্টা করি।’

ঘটনার সময় তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসের বাইরে উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সত্য নয়। আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামায়াতে আদায়ের চেষ্টা করি এবং আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ ঘটনার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আজই প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছি। ফেসবুকে ঘটনাটি দেখার পর কয়েকজন আমাকে ফোন করে জানায়। এরপর আমি তাদের বলি, ছবিগুলো আমাকে পাঠাতে। এর আগে এ বিষয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। আমার ভাইও এ বিষয়ে কখনো আমার সঙ্গে কিছু শেয়ার করেনি।’

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রকাশ্যে এভাবে লাঞ্ছিত করা কাম্য নয়। যদি বিএনপি বা অঙ্গসংগঠনের কেউ জড়িত থাকে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।’

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী আব্দুল আজিজ থানায় এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আদালতের আদেশের কাগজ রোববার থানায় পৌঁছাতে পারে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy