বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মুখর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

গোলাম মাহমুদ রাব্বি, জাবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর বৈশ্বিক উৎসবের এক অনন্য মিলনমেলা। চার বছর পরপর ফিরে আসা এই মহাযজ্ঞকে

2026-07-05T14:59:07+00:00
2026-07-05T14:59:07+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় মুখর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
গোলাম মাহমুদ রাব্বি, জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম   (ভিজিট : ১৬২)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর বৈশ্বিক উৎসবের এক অনন্য মিলনমেলা। চার বছর পরপর ফিরে আসা এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো বাংলাদেশেও তৈরি হয় ভিন্নমাত্রার উৎসবের আবহ। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্বকাপের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাস। 

প্রিয় দলের পতাকা ও জার্সি, হলের বারান্দা ও ক্যাম্পাসজুড়ে রঙিন সাজ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণবন্ত আলোচনা, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক এবং গভীর রাত পর্যন্ত বড় পর্দায় একসঙ্গে খেলা দেখা—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ যেন শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। আবাসিক হল, বটতলা, টঙের দোকান, ক্যাফেটেরিয়া, বিভাগীয় করিডোর কিংবা মুক্তমঞ্চ—যেদিকেই চোখ যায়, ফুটবলই যেন আলোচনার প্রধান বিষয়। কে জিতবে শিরোপা, কার কৌশল কতটা কার্যকর, কোন তারকা খেলোয়াড় এবার আলো ছড়াবেন—এসব নিয়েই চলছে প্রাণবন্ত আলোচনা। 

প্রিয় দলকে ঘিরে বন্ধুত্বপূর্ণ খুনসুটি, জয়-পরাজয়ের বাজি, ম্যাচ বিশ্লেষণ ও খেলা শেষে উদযাপন—সবকিছু মিলিয়ে ক্যাম্পাসজীবনে যোগ হয়েছে ভিন্নমাত্রার প্রাণচাঞ্চল্য। শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; এটি আবেগ, বন্ধুত্ব, প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সম্মিলিত আনন্দ ভাগাভাগির এক অনন্য উপলক্ষ। বিশ্বকাপ নিয়ে এমনই নানা অনুভূতি, প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাসের কথা জানিয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী।

ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান আকাশ বলেন, “বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের আশা, আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক। মাঠে ১১ জন ফুটবলার খেললেও তাদের সঙ্গে লড়াই করে একটি দেশের কোটি সমর্থক। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। 

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাকে ঘিরে এ দেশের মানুষের উন্মাদনা সত্যিই অনন্য। ক্যাম্পাস, রাস্তা এমনকি বাড়ির ছাদেও উড়ছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। কে বড় পতাকা টাঙাবে, কে বড় মিছিল করবে কিংবা কে তর্কে জিতবে—এসব নিয়েই উৎসবমুখর পরিবেশ। টঙের দোকানের আড্ডা থেকে বড় পর্দার সামনে—সব জায়গার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন বিশ্বকাপ। নিজের প্রিয় দলের জার্সি পরে খেলা দেখা, দলের জয় উদ্‌যাপন করা—এসব অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। বিশ্বকাপ মানুষকে ভৌগোলিক দূরত্ব ভুলিয়ে এক সুতোয় গেঁথে দেয়।”

বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রায়হান বলেন, “বিশ্বকাপের আমেজে পুরো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে। অনেক দিন ধরেই ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অন্তত একটি বিশ্বকাপ ক্যাম্পাসে উপভোগ করব। এবার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। 

মুক্তমঞ্চে বড় পর্দায় খেলা দেখার সময় যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়, তা অনেকটা স্টেডিয়ামের পরিবেশের মতোই। হলের ক্যান্টিন, বটতলা, মাঠ কিংবা বিভাগ—সব জায়গাতেই চলছে বিশ্বকাপ নিয়ে আলোচনা। আমি ব্রাজিলের সমর্থক। পেলে, রোনালদো, রোনালদিনহো থেকে শুরু করে নেইমার—ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যই আমাকে মুগ্ধ করে। 

বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক, একসঙ্গে খেলা দেখা এবং আনন্দ ভাগাভাগির অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুকে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আশা করছি, ব্রাজিল এবার শিরোপা জিতে তাদের বহুল কাঙ্ক্ষিত হেক্সা মিশন পূরণ করবে।”

আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম দিবা বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ সবসময়ই আমার কাছে আবেগ ও উত্তেজনার বিশেষ উপলক্ষ। এবারের বিশ্বকাপে আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক। তাদের আত্মবিশ্বাসী ফুটবল, আক্রমণাত্মক মানসিকতা এবং দলগত সমন্বয় আমাকে মুগ্ধ করে। 

ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সাফল্যের গল্প ও সমর্থকদের ভালোবাসা দেখে বড় হয়েছি। বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা এই আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। একজন ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলার সৌন্দর্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আশা করি, আর্জেন্টিনা তাদের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে বিশ্বকাপকে আরও স্মরণীয় করে তুলবে।”

আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থী হাফিজুর রহমান আরাফাত বলেন, “ফুটবল বিশ্বকাপ একটি বৈশ্বিক ঘটনা। অংশ নেয় অল্প কয়েকটি দেশ, কিন্তু উৎসবে সামিল হয় পুরো বিশ্ব। আমার মনে হয়, বাংলাদেশে বিশ্বকাপের উন্মাদনা অনেক অংশগ্রহণকারী দেশের চেয়েও বেশি। তবে এই আবেগের আরেকটি দিকও রয়েছে। অন্য দেশের প্রতি আমাদের এত সমর্থন দেশের ফুটবলের দুর্বল অবস্থার কথাও মনে করিয়ে দেয়। 

যদি বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপে খেলতে পারে, তাহলে এই আনন্দ আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। তবুও বিশ্বকাপের এই উৎসব উপভোগ করা উচিত। বিশ্বকাপ চলুক, দেশজুড়ে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক। একই সঙ্গে আমাদের ফুটবলও একদিন বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিক—সেই প্রত্যাশাই করি।”


খেলার ফলাফল যাই হোক না কেন, শিক্ষার্থীদের কাছে বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়; এটি বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, আবেগ ও আনন্দ ভাগাভাগির এক অনন্য উৎসব। আর সেই উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠতেছে  প্রাণের ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।





Loading...
Loading...


শিক্ষা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy