প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৬ পিএম (ভিজিট : ৩৫)

X
ফাইল ছবি
নরসিংদীর পলাশ উপজলায় ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্ত্তী ওরফ (মণি) হত্যাকান্ডের দীর্ঘ ৬ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল অপরাধীরা। সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের স্পষ্ট উপস্থিতি থাকার পরও মামলার দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে নিহত অসহায় পরিবারের।
মামলা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরর ৫ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে নিজ বাড়ির ফটকের সামনে শরৎ চক্রবর্ত্তী ওরফে (মনি)কে পেছন থেকে অতর্কিত সুপরিকল্পিতভাব গুলি করে হত্যা করা হয়।
মনি চরসিন্দুর বাজারে বাবার মুদি দোকান পরিচালনার পাশাপাশি এক্সকাভেটর খননযন্ত্র ভাড়া দিতেন। ঘটনার দিন দোকান বন্ধ কর বাড়ি ফেরার পথে ওৎ পেতে থাকা ঘাতকরা তাকে লক্ষ্য করে পেছন থেকে গুলি ছুড়ে।
রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও তাকে প্রাণে বাঁচানো যায়নি। হত্যাকান্ডের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সেখানে শুটারের মুখটি কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। নিহতর ভাই রনি চক্রবর্ত্তী বলেন, মামলার প্রধান আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী ব্যবসায়িক পার্টনার রাজেন্দ্র চৌহান রাজু , সৌমা চৌহান, সাগর চৌহান ও শ্যামল চৌহান এই চারজনকে আসামি করে কোর্টে মামলা করলেও অজানা কারণে এখনো মুল আসামিদের গ্রেফতার করছে না ।
তিনি আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মনির হত্যাকান্ডের পরদিন কারো সাথে কোন পরামর্শ না করে আমার ভাইয়ের ব্যবসায়িক পার্টনার রাজেদ্র চৌহান বাবাকে থানায় নিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করায়। পরবর্তীত আলামত নষ্টসহ ব্যবসায়িক হিসাব নিয়ে গড়িমসি করা এবং সম্পূর্ণভাবে যোগাযাগ বিচ্ছিন্ন থাকায় আমর ভাই(মনি চক্রবর্তীর) ব্যবসায়িক পার্টনার রাজেন্দ্র চৌহান, ম্যানেজার সৌমা চৌহান, বাড়ির কেয়ারটেকার সাগর চৌহান, শ্যামল চৌহানসহ অজ্ঞাতনামা কয়কজনকে আসামি করে নতুন করে মামলা দায়ের করি।
মামলার তদন্তভার বর্তমানে ডিবির উপর ন্যাস্ত করা হয়। তবে এখনো পর্ষন্ত তদন্তকার্যের তেমন কোন অগ্রগতি আমরা দেখিনি। আমাদের পরিবার আতংকের মধ্যে দিনযাপন করছে।
ভাই হত্যার বিচার আমরা কবে পাবো কিংম্বা আদো পাবো কিনা জানিনা। সিসিটিভি ফুটেজে খুনিদের স্পষ্ট উপস্থিতি থাকার পরও মামলার দৃশ্যমান কোনা অগ্রগতি না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশায় দিন কাটছে আমাদের পরিবারের। নিহতর স্ত্রী অন্তরা মৌখার্জি ও বৃদ্ধ বাবা মদন চক্রবর্তী কান্না জড়িত কণ্ঠ বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে শুটার দেখা যাওয়ার পরও কেন তাকে ধরা হছে না?
এবং মামলার প্রধান আসামি ও হত্যার পরিকল্পনাকারী রাজেদ্র চৌহান রাজু দিব্যি প্রকাশ্য ঘুরছেন তাকে সহ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারর জন্য ৬ মাস ধরে আমরা প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমরা আর কিছু চাই না, শুধু এই নির্মম হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার আর খুনিদর ফাঁসি চাই।”