
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে নিকটস্থ একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত হন তিনি এবং পরবর্তীতে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে মুক্তিসংগ্রাম, কালের যাত্রার ধ্বনি, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণী ও বাংলা সাহিত্য, মানুষ ও তার পরিবেশ, সাহিত্যজিজ্ঞাসা: সাহিত্যসৃষ্টি ও সাহিত্যবিচার, জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল, আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা এবং বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শের বাংলা অনুবাদ।
লেখালেখির পাশাপাশি সম্পাদক হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ, ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও স্বদেশচিন্তাসহ একাধিক গ্রন্থ। এছাড়া তিনি ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্র সম্পাদনা করেছেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য, শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।