প্রকাশ: রোববার, ৫ জুলাই, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম (ভিজিট : ৩৪)

X
সংগৃহীত ছবি
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার হরিয়াউন্দ গ্রামে বাসিন্দা মন্নাস আলী, বয়স ৭৫ বছর। একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধে সময় তার পিঠে পাকিস্তানি মিলিটারির গুলি বিঁধেছিল।
এরপর দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে কেটে যায়। বেশ কয়েক দিন থেকে যন্ত্রণা আর ব্যথা সহ্য করতে না পেরে শেষে অস্ত্রপচারের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করা হয়েছে সেই গুলি। শনিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হানের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি টিম অস্ত্রোপচার চালায়।
তার পরিবার জানায়, ১৯৭১ সালে দুর্গাপুরে পাকিস্তানি মিলিটারিরা একটি ক্যাম্প স্থাপন করে। সে সময় গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা তিন পাকিস্তানি মিলিটারিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেন। এর প্রতিশোধ নিতে মিলিটারি বাহিনী ওই আশপাশের গ্রামগুলোতে হামলা চালায়। হামলার সময় অর্ধশতাধিক মানুষকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে আগুন দেয়া হয় এবং নির্বিচারে গুলি চালানো হয়।
এতে অনেকেই নিহত হন আর কেউ কেউ পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। মন্নাস আলীও তাদের মধ্যে একজন ছিলেন। পালানোর সময় মিলিটারির ছোড়া একটি গুলি তার পিঠে বিদ্ধ হয়। দারিদ্র্যের কারণে তিনি এতোদিন চিকিৎসা করাতে পারেননি। এভাবেই শরীরে গুলি নিয়েই কেটে যায় দীর্ঘ ৫৫ বছর। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসা এবং চিকিৎসকদের সহযোগিতায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলিটি তার শরীর থেকে অপসারণ করা হয়।
মন্নাস আলীর ছেলে আবুল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবা বেশির ভাগ সময়ই অসুস্থ থাকতেন। টাকার অভাবে আমরা চিকিৎসা করাতে পারিনি। বাবাও গুলি বের করা নিয়ে ভয় পেতেন। সবার সহযোগিতায় আমার বাবার শরীর থেকে গুলিটি বের করা হয়েছে। আমরা সবার কাছে দোয়া চাই।’