রাজনগরে উঠানের ৮ ফুট নিচে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামীর স্বীকারোক্তিতে মিলল লাশ

রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ১৮ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর

2026-07-06T15:53:15+00:00
2026-07-06T15:53:15+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রাজনগরে উঠানের ৮ ফুট নিচে গৃহবধূর মরদেহ, স্বামীর স্বীকারোক্তিতে মিলল লাশ
রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম   (ভিজিট : ২০৯)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগরে নিখোঁজের ১৮ দিন পর এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় নিজ বসতবাড়ির উঠানের প্রায় ৮ ফুট গভীর মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় জাহেদা বেগমের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

সোমবার (৬ জুলাই) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খননকাজ চালিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন থেকে জাহেদা বেগম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় স্বজন ও প্রতিবেশীরা তার খোঁজ জানতে চাইলে স্বামী আলমগীর আলী দাবি করেন, তার স্ত্রী বিদেশে চলে গেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো খোঁজ না পাওয়ায় একই ইউনিয়নের সোনাটিকী গ্রামের বাসিন্দা নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির তদন্তে পুলিশ আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রথমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দেন। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, হত্যার পর মরদেহ বাড়ির উঠানের সামনে প্রায় ৮ ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি চাপা দিয়ে রাখেন।

স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জেলা পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে খননকাজ চালানো হয়। পরে মাটির নিচ থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আলমগীর আলী (৪০),জালাল আহমদ,আমিনুল ইসলাম ও নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদা ও আলমগীর দম্পতির ছয় বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে আলমগীর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি স্ত্রীকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির উঠান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

বিভৎস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy