মৃত্যুদণ্ডের রায়, কিন্তু কার্যকর হয় না কেন?

বুলেটিন ডেস্ক

আইন-আদালত

উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকলেও ফাঁসি কার্যকরের হার তুলনামূলকভাবে কম। ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে এ

2026-07-08T13:58:25+00:00
2026-07-08T13:58:25+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
মৃত্যুদণ্ডের রায়, কিন্তু কার্যকর হয় না কেন?
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ১:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ৪১)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকলেও ফাঁসি কার্যকরের হার তুলনামূলকভাবে কম। ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে এ হার আরও কম বলে দেখা যায়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, উচ্চ আদালতে আপিল এবং রিভিউসহ বিভিন্ন আইনি ধাপ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লাগায় অধিকাংশ মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর হতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই জঘন্য ও ভয়াবহ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রচলিত। সময়ের সঙ্গে ইউরোপের অনেক দেশ এ শাস্তি বাতিল করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রয়েছে।

তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলেও তা কার্যকরের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, আপিল ও অন্যান্য আইনি ধাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই রায় বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লেগে যায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে গত প্রায় আড়াই দশকে মাত্র আটটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় গত পাঁচ দশকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নজির নেই। অন্যদিকে, পাকিস্তানে গত ২৫ বছরে ৫০০-এর বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে মোট ৪৪৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এ পর্যন্ত সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২০২৩ সালে।

তবে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে এখন পর্যন্ত কোনো নারী অপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি। আইনজীবীরা বলছেন, নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির দণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে তা কমে যাচ্ছে। তারা বলছেন, আইনের কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণে মৃত্যুদণ্ড কমানোর সুযোগ রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘পাঁচটা গ্রাউন্ড যদি থাকে এটাকে বলে হলো মিটিগেটিং সারকামস্ট্যান্স আর এগ্রিভেটিং সারকামস্ট্যান্স। তার একটা বাচ্চা এবং এই বাচ্চাটার বয়স হলো এক বছর। তো সে তো তিন বছর চার বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খায়। ২০১৮-১৯ এর মামলা এখন হচ্ছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান বলেন, ‘কোনো মহিলা প্রেগনেন্ট না থাকে বা তার বাচ্চা ফিডিং কোনো বেবি না থাকে, তাহলে সেই ক্ষেত্রে তাকে ফাঁসি দিতে আসলে আইনে কোনো রকম বাধা নেই।’বর্তমানে দেশের কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি রয়েছেন ৯২ জন নারী। এদের মধ্যে ৮৬ জনের বিচার কাজ ঝুলে আছে হাইকোর্টে। বাকি ছয় জনের আপিল বিভাগে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ‘এ স্টেপগুলো যেহেতু আমাদের একটা লম্বা কিউ আছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় আসে যে, অনেক সময় দেখা যায় আসামী আপিল না করলেও কোড মোতাবেক তাকে অটোমেটিক আপিলে করে শুনানিী করে কনফার্ম করে তারপর নেক্সট স্টেপে যেতে হবে।’

স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো নারী আসামীর রায় কার্যকর হয়েছে এমন নজির নেই। নিম্ন আদালত থেকে ফাঁসির দণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে এসে হয়তো স্থগিত হচ্ছে কিংবা সাজার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর চাওয়া, অপরাধীকে পুরুষ কিংবা নারী হিসেবে নয়, অপরাধী হিসেবেই গণ্য করা হোক।





Loading...
Loading...


আইন-আদালত এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy