প্রকাশ: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪২ পিএম (ভিজিট : ২৮)

X
ফাইল ছবি
বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার তাকে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন। এ নিয়ে খায়রুল হককে মোট নয়টি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো। এর মধ্যে আটটি মামলায় তিনি জামিন পেলেও সর্বশেষ এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় তার মুক্তি আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসাইন জানান, গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশের পর আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করেছে। দুপুরে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই বনানী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম খায়রুল হককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত করে শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় মহাখালী সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ, ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরে উজ্জ্বল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।
এর আগে, গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওই দিনই জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানার দুটি মামলাসহ শাহবাগ থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এসব মামলার মধ্যে পাঁচটিতে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগ তার জামিন বহাল রাখে। এরপর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার আরও দুটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হলে সেগুলোতেও উচ্চ আদালত জামিন দেন। পরে সেই জামিন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত বহাল রাখেন। সবশেষে যাত্রাবাড়ী থানার খোবাইব হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। ওই মামলায়ও হাইকোর্ট জামিন দিলে তা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত বহাল রাখেন। তবে বনানী থানার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশের ফলে তার কারামুক্তি আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।