নেছারাবাদে ভেজাল চিংড়ি বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজারে চিংড়ি মাছের ওজন কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জেলি জাতীয় পদার্থ প্রবেশ করিয়ে বিক্রির অভিযোগে

2026-07-09T15:17:57+00:00
2026-07-09T15:17:57+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
নেছারাবাদে ভেজাল চিংড়ি বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৭ পিএম   (ভিজিট : ৭২)
ছবি: প্রতিনিধি
X

ছবি: প্রতিনিধি

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার জগন্নাথকাঠি বাজারে চিংড়ি মাছের ওজন কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর উদ্দেশ্যে জেলি জাতীয় পদার্থ প্রবেশ করিয়ে বিক্রির অভিযোগে এক মাছ ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। 

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বাজারজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিরাপদ খাদ্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দত্তের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে এ জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী উত্তম কুমার মণ্ডল জগন্নাথকাঠি বাজারের একটি মাছের আড়তের মালিক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মৈশানী গ্রামের এক ক্রেতা বাজার থেকে এক কেজি চিংড়ি মাছ কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। মাছ পরিষ্কার করার সময় প্রতিটি চিংড়ির মাথার ভেতরে জেলি সদৃশ পদার্থ দেখতে পেয়ে তিনি বিস্মিত হন। পরে মাছগুলো নিয়ে বাজারে ফিরে গিয়ে বিষয়টি বিক্রেতাকে অবহিত করেন। খুচরা বিক্রেতা জানান, তিনি মাছগুলো একটি পাইকারি আড়ত থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কৃত্রিম রং ব্যবহার করে চাষের মাছকে দেশি মাছ হিসেবে বিক্রি এবং চিংড়ির ওজন বাড়াতে জেলি জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করার অভিযোগও আগে থেকে প্রচলিত ছিল। তাদের দাবি, অতীতে কয়েকবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট কঠোর না হওয়ায় অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছে অজানা রাসায়নিক বা জেলি জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করা জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব পদার্থ দীর্ঘদিন শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভারসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই বাজার থেকে মাছ কেনার সময় ভোক্তাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আসাদুজ্জামান বলেন, ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে প্রক্রিয়াজাত খাদ্য নিয়মিত গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অমিত দত্ত বলেন, ভেজাল খাদ্য বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা, ভোক্তা এবং সচেতন মহল প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বাজারে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কঠোর নজরদারি এবং ভেজাল খাদ্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy