প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:০০ পিএম (ভিজিট : ৫৪)

X
ছবি: প্রতিনিধি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অন্যতম প্রধান একাডেমিক ভবন শহীদ সাজিদ ভবনের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) থেকে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিতভাবে পানি ঝরছে। নির্দিষ্ট ড্রেনেজ লাইনের ব্যবস্থা না থাকায় এসব পানি ভবনের বাইরের দেয়াল বেয়ে নিচে পড়ছে। ফলে ভবনের বিভিন্ন অংশ সারাক্ষণ স্যাঁতসেঁতে থাকছে এবং দেয়ালজুড়ে জন্ম নিচ্ছে শেওলা। এতে ভবনের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ সাজিদ ভবনের বিভিন্ন তলায় স্থাপিত এসিগুলোর আউটলেট পাইপ থেকে অবিরাম পানি ঝরছে। এসব পানি সরাসরি ভবনের দেয়ালে পড়ে নিচে নেমে আসছে। কোথাও দেয়ালের রং বিবর্ণ হয়ে গেছে, আবার কোথাও সবুজ শেওলার আস্তরণ স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে পানি পড়তে থাকায় ভবনের বাইরের অংশে স্থায়ী স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনের বিভিন্ন বিভাগে ব্যবহৃত প্রায় শতাধিক এসি থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ পানি ঝরে পড়লেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ সামান্য পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি এসির ড্রেনেজ পাইপ একটি নির্দিষ্ট লাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ভবনের বাইরে বা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এতে দেয়ালে পানি পড়া বন্ধ হবে এবং ভবনের সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ন থাকবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এসির পানি নিয়মিত দেয়ালে পড়তে থাকলে দেয়াল দীর্ঘ সময় ভেজা থাকে। এমন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে সহজেই শেওলা ও ছত্রাক জন্মায়। এতে শুধু ভবনের বাহ্যিক সৌন্দর্যই নষ্ট হয় না, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দেয়ালের রং, প্লাস্টার ও স্থায়িত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও বাড়তে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮তম আবর্তনের শিক্ষার্থী ফাহিমা তাজরীন বলেন, "শহীদ সাজিদ ভবনের দেয়ালে প্রতিনিয়ত এসির পানি পড়ে শেওলা জমছে। এটি শুধু দৃষ্টিকটু নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রশাসন চাইলে খুব সহজেই সব এসির পানি নির্দিষ্ট পাইপের মাধ্যমে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ভবনের সৌন্দর্য রক্ষা করুক।"
আরেক শিক্ষার্থী সাব্বির হাসান সোহান বলেন, "আমাদের ছোট্ট একটি ক্যাম্পাস। চাইলে প্রতিটি কোণাই পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় একাডেমিক ভবনের এমন অবস্থা সত্যিই হতাশাজনক। ভবনের সৌন্দর্য রক্ষা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হলেও এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে প্রতিদিন এসির পানি পড়ে শেওলার বিস্তার আরও বাড়ছে।"
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, "বিবিএ ভবনের বিভাগগুলোর এসি মূলত সংশ্লিষ্ট বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তবে এসির পানি নিয়মিত দেয়ালে পড়ে ভবনের ক্ষতি হচ্ছে—এ বিষয়টি আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। পানিগুলো পাইপের মাধ্যমে নিচে নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"