প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩২ পিএম আপডেট: ০৯.০৭.২০২৬ ৭:৩৪ পিএম (ভিজিট : ৭১)

X
ছবি: প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি উপজেলার আরও কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে এবং ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী অন্তত ২০টিরও বেশি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বন্যা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে মনু ও ধলাই নদীর পানি ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে দুই নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে নদীর পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে। এছাড়া কামারচাক ইউনিয়নের তারাপাশার টুপিরমহল ভোলানগর ও আশপাশের এলাকায় বাঁধ উপচে পানি ঢোকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
মনু নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রতিরক্ষা বাঁধে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিলে কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর কোনাগাঁও দস্তিদারেরচক ইসলামপুর জালালপুর তেঘরী করাইয়া মৌলভীরচক আদমপুর কামারচাক খাসপ্রেমনগর বিশালী মিঠিপুরসহ ২০টিরও বেশি গ্রাম বন্যাকবলিত হতে পারে।
এদিকে সম্ভাব্য ভাঙন ঠেকাতে টেংরা ইউনিয়নের হরিপাশা এবং কামারচাক ইউনিয়নের টুপিরমহল ও ভোলানগর এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বস্তায় বালু ও মাটি ভরে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ রক্ষার কাজ চলছে।
পরিস্থিতি পরিদর্শনে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজু চন্দ্র পাল বলেন,রাজনগরের কয়েকটি ইউনিয়নে এক হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি রয়েছেন। ভাঙনপ্রবণ স্থানগুলো পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন, গত রাত থেকেই বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি। সকালেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বস্তায় মাটি ভরে বাঁধ রক্ষার কাজ করা হচ্ছে। যেসব মানুষ পানিবন্দি হয়েছেন,তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।